বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন এক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষা করা টুথপেস্টের ৭৬.৫ শতাংশেই এই অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা রয়েছে, যার মধ্যে শিশুদের জন্য তৈরি ৬টি টুথপেস্টের ৪টিতেও এর অস্তিত্ব মিলেছে। মূলত প্রসাধন ও ব্যক্তিগত পরিচর্যার বিভিন্ন পণ্যে ঘর্ষণকারী উপাদান হিসেবে কিংবা ঘনত্ব বজায় রাখতে ইচ্ছাকৃতভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট এই প্লাস্টিক কণা ব্যবহার করা হয়। খাবার ও পানির পাশাপাশি প্রতিদিন দাঁত মাজার সময়ও অজান্তেই এই কণা মানবদেহে প্রবেশ করছে।
বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে মানুষের রক্ত, মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও প্লাসেন্টার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন। গবেষণার ইঙ্গিত অনুযায়ী, এসব কণা পরিপাকতন্ত্র, শ্বাসতন্ত্র, হরমোনের ভারসাম্য, প্রজননক্ষমতা এবং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি ধমনিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমা হলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে, যেমন যুক্তরাষ্ট্রে মুখগহ্বর পরিচর্যার পণ্যে মাইক্রোবিড ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাংলাদেশে টুথপেস্টে এর কোনো নির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্য সীমা নির্ধারিত নেই। তবে ইএসডিও এবং বিএসটিআইয়ের মতে, অনুমোদিত উপাদানের তালিকায় মাইক্রোপ্লাস্টিক না থাকায় টুথপেস্টে এর উপস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মন্তব্য করুন