ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর থেকে জনসমক্ষে না আসায় নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা কৌতূহল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় পিতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে নিজেকে আড়ালে রেখেছেন ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা। তবে আগামী সপ্তাহে তেহরানে আয়োজিত পিতার স্মরণসভায় তার উপস্থিতির সম্ভাবনা নিয়ে দেশটিতে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে তেহরানের মুসাল্লায় সাবেক এই নেতার স্মরণে একটি বিশেষ স্মরণসভা আয়োজন করা হয়েছে। মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকেই এই সভার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গত সপ্তাহে যখন খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, তখন তার তিন ছেলে মোস্তফা, মেসাম ও মাসুদ উপস্থিত থাকলেও মোজতবাকে সেখানে দেখা যায়নি। এই অনুপস্থিতি সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, যুদ্ধের শুরুর দিকে হওয়া সেই ভয়াবহ বিমান হামলায় মোজতবা খামেনি নিজেও আহত হয়েছিলেন বলে জানা যায়। এরপর থেকেই তিনি সম্পূর্ণ অন্তরালে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও তিনি ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হয়েছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক জনসমক্ষে তাকে দেখা যায়নি। তাই আগামী সপ্তাহের স্মরণসভাটি তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পিতার স্মরণসভায় মোজতবা খামেনির উপস্থিতি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি তার নেতৃত্বের ভিত্তি মজবুত করার একটি বড় সুযোগ। যদি তিনি মঙ্গলবার জনসমক্ষে আসেন, তবে শীর্ষ নেতা হিসেবে এটিই হবে তার প্রথম ঐতিহাসিক জনসমক্ষ উপস্থিতি। বিশ্বজুড়ে চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্যে নতুন নেতার এই আত্মপ্রকাশ দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
মন্তব্য করুন