রিয়াল মাদ্রিদে জোসে মরিনিওর প্রথম দফার কোচিং অধ্যায় শেষ হওয়ার দীর্ঘ ১৩ বছর ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে। সম্প্রতি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া তার নতুন জীবনীমূলক মিনি ডকুমেন্টারি সিরিজ ‘মরিনিও’-তে উঠে এসেছে অত দিনের বেশ কিছু অজানা ও রোমাঞ্চকর স্মৃতি। বিশেষ করে সেই সময় পেপ গার্দিওলার অপ্রতিরোধ্য বার্সেলোনার আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং মাঠে লিওনেল মেসির মুখোমুখি হওয়াটা যে কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল, তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই পর্তুগিজ কোচ। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক মিডফিল্ডার এবং বর্তমানে মরিনিওর সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সামি খেদিরাও এই ডকুমেন্টারিতে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। এল ক্লাসিকোর মতো হাই ভোল্টেজ ম্যাচের আগের কৌশলগত আলোচনার কথা স্মরণ করে খেদিরা জানান, ম্যাচের সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পুরো দল বার্সেলোনাকে নিয়ে মাত্র দুই মিনিট আলোচনা করত, আর বাকি প্রায় চল্লিশ মিনিট জুড়েই কেবল আলোচনা হতো লিওনেল মেসিকে একা কীভাবে সামলানো যায় তা নিয়ে।
খেলোয়াড়দের মাঠে নামানোর আগে ট্যাকটিক্যাল খুঁটিনাটি নিখুঁত করার স্মৃতিচারণ করে খেদিরা আরও জানান যে প্রতিপক্ষের কৌশল ভাঙতে কোচ মরিনিও প্রায়ই খেলোয়াড়দের পজিশনে পরিবর্তন আনতেন। কখনো পেপেকে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বা ছয় নম্বর পজিশনে খেলানো হতো, আবার কখনো সার্জিও রামোসকে নামানো হতো ভিন্ন দায়িত্বে। তবে এতকিছুর পরও দলটির সামনে সবচেয়ে বড় এবং অবিচল প্রশ্ন একটাই ছিল, সেটি হলো এই আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসিকে আটকানোর উপায় কী। ডকুমেন্টারিতে খোদ জোসে মরিনিও নিজেও মেসিকে নিয়ে নিজের ভেতরের না বলা অনুভূতির কথা প্রকাশ করে বলেন যে সেই সময় পরিস্থিতিটা তার কাছে সত্যিকারের এক দুঃস্বপ্নের মতো মনে হতো। তিনি প্রায়ই নিজেকে প্রশ্ন করতেন যে এই অপ্রতিদ্বন্দ্বী তারকাকে থামানোর জন্য তাদের আসলে ঠিক কী করা উচিত। মরিনিও আরও স্বীকার করেন যে বার্সেলোনার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ থেকেই তিনি পরিষ্কার বুঝতে পেরেছিলেন যে প্রতিপক্ষ প্রথাগতভাবে যা করে ঠিক সেভাবে খেলে তাদের চেয়ে সেরা হওয়া সম্ভব নয়। বার্সেলোনাকে পরাস্ত করতে হলে রিয়াল মাদ্রিদকে মাঠের ভেতরে এবং বাইরে উভয় জায়গাতেই সম্পূর্ণ আলাদা ও ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হতো।
আলোচনার শেষ পর্যায়ে এসে পুরোনো সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ইতিবাচকভাবে স্মরণ করে মরিনিও বলেন যে তারা একে অপরের প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কেবল এই অর্থে যে উভয় দলই একই ট্রফি, একই লিগ এবং একই উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের গৌরব অর্জনের জন্য লড়াই করত। তার মতে, ফুটবলের সেই স্বর্ণালী লড়াই ও তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দিনশেষে একটি দারুণ ইতিবাচক বিষয় ছিল। মরিনিওর বর্ণাঢ্য কোচিং ক্যারিয়ারের নানা উত্থান-পতন ও নেপথ্যের গল্প নিয়ে তৈরি এই আকর্ষণীয় মিনি ডকুমেন্টারি সিরিজটি আজ ১১ আগস্ট নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে। এই প্রোডাকশনে স্বয়ং জোসে মরিনিও ছাড়াও তার সুদীর্ঘ ও বর্ণময় কোচিং ক্যারিয়ারে অতীতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা বিভিন্ন ফুটবল ব্যক্তিত্ব ও ঘনিষ্ট মানুষের এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার স্থান পেয়েছে।
মন্তব্য করুন