২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে চালানো ভয়াবহ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের লেখা একটি গোপন নথি জনসমক্ষে এসেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মেইর অমিত ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড টেররিজম ইনফরমেশন সেন্টার (আইটিআইসি)-এর প্রকাশিত এই নথিতে দেখা গেছে, হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল গাজায় পারমাণবিক অস্ত্র পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন সিনওয়ার। ২০২২ সালের ২৪ আগস্ট নিজ হাতে লেখা এই নথিটি ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজায় অভিযান পরিচালনার সময় উদ্ধার করেছিল।
নতুন প্রকাশিত এই নথিতে সিনওয়ার অত্যন্ত সতর্কভাবে হামলার পরবর্তী পরিস্থিতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ইসরাইল যেকোনো অবস্থাতেই একটি জোরালো ও বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া দেখাবে এবং সেই পর্যায়ে তারা তাদের হাতে থাকা সব ধরনের অস্ত্র, এমনকি পারমাণবিক বোমার ব্যবহার করতেও দ্বিধা করবে না। এই চরম ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা সত্ত্বেও সিনওয়ার তাঁর ‘ত্রাণকর্তাসুলভ’ বা মেসিয়ানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে আসেননি। তিনি এই হামলাকে ‘জীবন-মরণের লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন এবং বলেছিলেন, যদি গাজা উপত্যকা ধ্বংসও হয়ে যায়, তবুও তারা এই লড়াই চালিয়ে যাবেন।
নথিগুলো থেকে আরও জানা গেছে যে, সিনওয়ারের প্রাথমিক পরিকল্পনায় ১০ হাজার হামাস যোদ্ধার একটি বিশাল বাহিনীর কথা বলা হয়েছিল। প্রথম পর্যায়ে ২ হাজার, দ্বিতীয় পর্যায়ে ২ হাজার এবং তৃতীয় পর্যায়ে প্রায় ১ হাজার ৬০০ জন সাধারণ গাজাবাসীকে যুক্ত করার নীল-নকশা ছিল তাদের। তার মূল কৌশল ছিল ইসরাইলকে সুকৌশলে ধোঁকা দিয়ে আত্মতুষ্টিতে রাখা এবং ৬ থেকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে ইসরাইলের পালটা আক্রমণ চালানোর সক্ষমতা অকেজো করে দেওয়া।
আইটিআইসি এবং ইসরাইলের মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টরেটের বিশ্লেষণের মাধ্যমে জানা গেছে, ২০২২-২০২৩ সাল পর্যন্ত হামাসের গোপন কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্যই ছিল আইডিএফ-কে চমকে দেওয়া এবং যুদ্ধের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখা। যদিও এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের তীব্রতা বিশ্ববাসী দেখেছে, তবুও সিনওয়ারের ব্যক্তিগত এই নথিগুলো হামাসের রণনীতি এবং তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য সম্পর্কে নতুন এক ভয়াবহ দিক উন্মোচন করেছে। জেরুজালেম পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশিত এই গোপন তথ্যগুলো এখন মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির পেছনে থাকা হামাসের অভ্যন্তরীণ মনস্তত্ত্ব বুঝতে বড় ভূমিকা রাখছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত এবং এই নথিগুলো নিয়ে আপনার কোনো বিশেষ পর্যবেক্ষণ বা প্রশ্ন আছে কি?
মন্তব্য করুন