মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই সংঘাত শুরুর পর থেকেই ইতালি এ বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। কোনো সামরিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার পরিবর্তে ইতালি সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক আলোচনার ওপরই জোর দিচ্ছে।
ইতালির এই অবস্থান কেবল কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর আগেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে মধ্যপ্রাচ্যগামী একটি মার্কিন সামরিক বিমানকে সিসিলির সিগোনেলা বিমানঘাঁটিতে অবতরণের অনুমতি না দেওয়ার মাধ্যমে রোম তাদের সামরিক নিরপেক্ষতার বার্তা পরিষ্কার করেছিল। মেলোনির এই কঠোর অবস্থান বুঝিয়ে দেয় যে, ইতালি কোনো পক্ষপুষ্ট সামরিক জোটে সম্পৃক্ত হওয়ার চেয়ে নিজের দেশের ও অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।
ন্যাটো সম্মেলনের শেষে ট্রাম্পের সঙ্গে তার রাজনৈতিক সম্পর্ক ও অতীতের বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মেলোনি দৃঢ়তার সঙ্গেই জানান যে, তার আগের সব সিদ্ধান্তের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং এ নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই। যদিও গত এপ্রিল মাসে ট্রাম্প প্রকাশ্যে মেলোনির সমালোচনা করেছিলেন এবং ইরান যুদ্ধ ও পোপের মন্তব্য নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল, তবুও মেলোনি তার অবস্থানে অটল থেকেছেন।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বড় আকারে ছড়িয়ে পড়া থেকে বিরত রাখতে কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখবে। ইরান ও ইতালির মধ্যকার এই সামরিক অনীহা মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় একটি অংশের সাধারণ মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ। ফলে, আন্তর্জাতিক সংকটে ইতালি যে সরাসরি সামরিক যুদ্ধের পরিবর্তে রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার নীতিতে বিশ্বাসী, তা এই ঘোষণার মাধ্যমে পুনরায় স্পষ্ট হলো।
মন্তব্য করুন