সংসদে সরকারি দল বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এবং নিজেদের পরাজয় প্রায় নিশ্চিত জেনেই কেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তার সুনির্দিষ্ট দুটি কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ১১ দলীয় জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম)। সম্প্রতি বিশিষ্ট সাংবাদিক ও উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীনের জনপ্রিয় টকশো ‘ঠিকানা’য় অংশ নিয়ে তিনি এই বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন। ইতোমধ্যে গত বৃহস্পতিবার ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে তার আনুষ্ঠানিক মনোনয়নপত্রও জমা দেওয়া হয়েছে।
টকশোতে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকা এবং সরকারি দলের নিরঙ্কুশ সমর্থনের কারণে প্রার্থীর জয়-পরাজয় প্রায় নির্ধারিত থাকার পরও কেন এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামলেনএমন প্রশ্নের জবাবে অলি আহমদ দুটি মূল যুক্তি তুলে ধরেন। প্রথমত, দেশের গণতন্ত্রকে সত্যিকার অর্থে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে সবসময় জয়-পরাজয়ের কথা না ভেবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও চর্চার প্রতি গভীর সম্মান দেখাতে হয়। তিনি মনে করেন, নির্বাচন মানেই কেবল জেতা নয়, বরং সঠিক গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেওয়াটাও সমানভাবে জরুরি।
দ্বিতীয়ত, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ১১ দলীয় জোটের শক্ত অবস্থান এবং উপস্থিতি জাতির সামনে তুলে ধরার জন্যই এই প্রার্থী হওয়া। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে এই মুহূর্তে জনসমর্থনের বিচারে তাদের জোটটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যদি তারা কোনো প্রার্থী না দিতেন, তবে সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যম প্রশ্ন তুলত যে ১১ দলীয় জোটের কোনো অবস্থান বা প্রার্থী কেন নেই। তাই জোটের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুস্থ প্রতিযোগিতার বার্তা দিতেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। আগামী ২০ আগস্ট নির্ধারিত নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর আমিরসহ জোটের শীর্ষ নেতাদের প্রস্তাব ও সমর্থনে লড়ছেন এই অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা।
মন্তব্য করুন