কোনো জাদুকরী বা রহস্যময় ডেলিভারি নয়, বরং নিখুঁত লাইন, সঠিক লেন্থ আর অবিচল ধারাবাহিকতাই ছিল পেসার হাসান মাহমুদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে এই সহজ কিন্তু নিখুঁত পরিকল্পনা কাজে লাগিয়েই অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে একাই ধসিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের এই পেসার। দুর্দান্ত বোলিংয়ে অজিদের প্রথম ইনিংস কম রানে গুটিয়ে দেওয়ার পথে টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার উপহার দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে পাঁচ উইকেট শিকার করা প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে অনন্য এক ইতিহাস গড়েছেন ২৬ বছর বয়সী এই তারকা পেসার।
ম্যাচের প্রথম দিনে মাত্র ১৭ ওভার বল করে ৫৫ রান খরচায় ৬টি উইকেট তুলে নেন হাসান। তাঁর এই ঐতিহাসিক স্পেলের পেছনের মূল শক্তি ছিল কৌশলগত শৃঙ্খলা ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। ম্যাচের শুরু থেকেই অফ-স্টাম্পের আশপাশে টানা বল করে অজি ব্যাটারদের ডিফেন্সিভ খেলতে বাধ্য করেন এবং ডট বলের মাধ্যমে রানের গতি আটকে রেখে তৈরি করেন প্রবল মানসিক চাপ। উইকেটের ফায়দা তুলতে গিয়ে কোনো অতিরিক্ত বৈচিত্র্যের আশ্রয় না নিয়ে নিজের শক্তির জায়গাতেই অটল ছিলেন তিনি।
হাসানের নিখুঁত ফাঁদে একে একে পা দেন প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা। ইনিংসের শুরুতে জেক ওয়েদারাল্ড অফ-স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট ছুঁইয়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে ক্যাচ দেন। এরপর ট্র্যাভিস হেডকে অফ-স্টাম্পের বাইরে থেকে ভেতরে ঢুকে আসা দারুণ এক লেন্থ ডেলিভারিতে বোল্ড করেন তিনি। একে একে অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও তারকা পেসার মিচেল স্টার্কও হাসানের সঠিক লাইনের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন। ইনিংসের শেষ পর্যায়ে স্টিভেন স্মিথ ও ন্যাথান লায়ন শর্ট বলের ফাঁদে পড়ে আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিলে হাসানের ঝুলিতে জমা হয় ঐতিহাসিক ছয়টি উইকেট। ছয়টি উইকেটের জন্য ছয় রকমের জটিল কৌশল নয়, বরং সঠিক জায়গায় বল ফেলে প্রতিপক্ষকে ভুলের জালে জড়ানোই ছিল তাঁর সাফল্যের মূল রহস্য। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশি কোনো পেস বোলারের এটি তৃতীয় সেরা ফিগার এবং অজিভূমে টাইগারদের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স হিসেবে এটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন