মহাকাশপ্রেমীদের জন্য বছরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও চমৎকার সময় এটি, কারণ আকাশে শুরু হয়েছে দ্যুতি ছড়ানো বার্ষিক পার্সিড উল্কাবৃষ্টির চূড়ান্ত মুহূর্ত। চলতি বছর এই উল্কাবৃষ্টির চূড়ায় পৌঁছানোর সাথে সাথে এক বিরল মহাজাগতিক সংযোগ ঘটেছে, যার ফলে একই দিনে দুটি অসাধারণ জ্যোতির্বিজ্ঞান ঘটনা উপভোগ করার সুযোগ মিলেছে। বিশেষ করে ব্রিটিশ আকাশে সূর্য অস্ত যাওয়ার আগেই একটি গভীর আংশিক সূর্যগ্রহণ দৃশ্যমান হয়েছে, যা পরবর্তীতে রাতের আকাশকে উল্কাবৃষ্টির জন্য আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞ জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ঘটনাগুলোর এই মিলমহড়া ছিল এক নিখুঁত মহাজাগতিক কাকতালীয় ব্যাপার।
পার্সিড মূলত সুইফট-সাটল নামক একটি বিশাল কমলার অবশিষ্টাংশ থেকে তৈরি হয়, যার কঠিন কেন্দ্রের ব্যাস প্রায় ষোল মাইল। এই কমলেটটি সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ১৩৩ বছর সময় নেয়, যার ফলে এর রেখে যাওয়া প্রাচীন ধূলিকণা ও পাথর যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন তা পুড়ে উজ্জ্বল আলোর রেখা বা উল্কায় পরিণত হয়। এ বছর নতুন চাঁদের উপস্থিতির কারণে রাতের আকাশে চাঁদের কোনো উজ্জ্বল আলো ছিল না, যা উল্কাগুলো পরিষ্কারভাবে দেখতে বিশেষ সুবিধা তৈরি করেছে। ভোরের ঠিক আগের সময়গুলোতে ঘণ্টায় একশটিরও বেশি শুটিং স্টার বা উল্কাপতন খালি চোখে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কৃত্রিম আলো এবং জনবহুল শহর থেকে দূরে অন্ধকার স্থানে গিয়ে চোখকে অভ্যস্ত করলেই এই চমৎকার দৃশ্যটি সবচেয়ে ভালোভাবে উপভোগ করা সম্ভব।
মন্তব্য করুন