পারস্য উপসাগরে তীব্র ও নজিরবিহীন সামরিক উত্তেজনার মধ্যে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রধান সামরিক ঘাঁটিতে একের পর এক শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই দূরপাল্লার ও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই তেহরানের পক্ষ থেকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে পরবর্তীতে যেকোনো ধরনের উসকানি বা নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালানো হলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস রপ্তানির অন্যতম প্রধান ও সংবেদনশীল রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সি শনিবার এই চাঞ্চল্যকর খবরটি আন্তর্জাতিক মহলে নিশ্চিত করেছে। ইরানের এই আকস্মিক ও সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বৈশ্বিক সামরিক বিশ্লেষকরা।
ইরানের শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের বিশেষ অ্যারোস্পেস ফোর্স কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটি ‘আলি আল-সালেম’ এবং বাহরাইনে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের (৫ম ফ্লিট) সদরদপ্তরের প্রধান স্থাপনাগুলোকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করেছে। মূলত হরমুজ প্রণালিতে একটি বিশাল তেলবাহী ট্যাঙ্কারের অননুমোদিত এবং সন্দেহজনক চলাচলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ইরান ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী ও সরাসরি সংঘাতের সূত্রপাত হয়। আইআরজিসির দাবি, হরমুজ প্রণালির কিশমি দ্বীপ এবং সিরিক এলাকায় অবস্থিত তাদের দুটি প্রধান যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন ড্রোন থেকে আকস্মিক হামলা চালানোর পর পরই ইরান এই পাল্টা ও কঠোর প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে প্রকাশিত হামলার ঘটনার বিশদ বিবরণ থেকে জানা যায়, ভোররাত ১টা ৩০ মিনিটে চারটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আইআরজিসি নেভির সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় বা অনুমতি না নিয়ে এবং তাদের দেওয়া স্পষ্ট সতর্কবার্তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। এ সময় ইরানি নৌবাহিনীর চূড়ান্ত সতর্কবার্তার পর একটি ট্যাঙ্কারে আঘাত হেনে সেটির গতি রোধ করা হয় এবং বাকি তিনটি জাহাজ উল্টো পথে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এই ঘটনার ঠিক আধঘণ্টা পর, অর্থাৎ ভোররাত ২টার দিকে মার্কিন যুদ্ধংদেহী ড্রোনগুলো কিশমি দ্বীপ ও সিরিকে অবস্থিত ইরানের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ টাওয়ারে আকস্মিক ও বিধ্বংসী বিমান হামলা চালালে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
মার্কিন এই বিমান হামলার তাৎক্ষণিক ও কড়া প্রতিক্রিয়া হিসেবে আইআরজিসি আর দেরি না করে কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে উপর্যুপরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে। এক কড়া বিবৃতিতে রেভল্যুশনারি গার্ডস স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এই ধরনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি হলে ইরানের পক্ষ থেকে এর চেয়েও বড় এবং সীমাহীন জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মার্কিন-ইসরাইলি জোটকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা বলেছে, হরমুজ প্রণালি যদি তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য পুরোপুরি লকডাউন বা বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে মারাত্মক ও অপূরণীয় বিপর্যয় নেমে আসবে তার সম্পূর্ণ দায় এই জোটকেই নিতে হবে। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং বিশ্বশক্তিগুলো পরিস্থিতি শান্ত করার কূটনৈতিক প্রচেষ প্রচেষ্টা শুরু করেছে।
মন্তব্য করুন