২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এ’-এর দ্বিতীয় বিগ-ম্যাচে মেক্সিকোর গুয়াদালাহারার এস্তাদিও আকরন-এ মুখোমুখি হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্র। স্বাগতিক মেক্সিকো এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচের পর এই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই নকআউট পর্বে যাওয়ার টিকিট নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। এশিয়ান পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া তাদের টানা ১১তম বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করছে কিংবদন্তি কোচ হং মিউং-বো-এর অধীনে। অন্যদিকে দীর্ঘ ২০ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরেই নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে মরিয়া চেক প্রজাতন্ত্র।
দক্ষিণ কোরিয়া এই ম্যাচে ৩-৪-৩ ফরমেশনে মাঠে নামতে পারে। দলের রক্ষণভাগ সামলানোর মূল দায়িত্বে থাকছেন বায়ার্ন মিউনিখের তারকা ডিফেন্ডার কিম মিন-জে। মাঝমাঠে ইনজুরির কারণে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে বায়ে জুন-হোর, তবে দলের আক্রমণভাগ বিশ্বের যেকোনো ডিফেন্সের জন্য ভয়ের কারণ হতে পারে। টটেনহ্যাম কিংবদন্তি ও বর্তমান এলএএফসি ফরোয়ার্ড সন হিউং-মিন খেলবেন বাঁ-দিক থেকে, পিএসজি তারকা লি কাং-ইন থাকবেন ডান-উইঙে এবং মাঝখান থেকে আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন উলভারহ্যাম্পটনের হোয়াং হি-চ্যান। কোরিয়ার সম্ভাব্য একাদশে দেখা যেতে পারে কিম সেউং-গিউ, চো ইউ-মিন, কিম মিন-জে, কিম তায়ে-হিয়ন, কিম মুন-হওয়ান, কিম জিন-গিউ, পাইক সেউং-হো, লি তায়ে-সেওক, লি কাং-ইন, হোয়াং হি-চ্যান এবং সন হিউং-মিনকে।
অন্যদিক চেক প্রজাতন্ত্র এই ম্যাচে ৩-৫-২ বা ৩-৪-১-২ ফরমেশন ব্যবহার করতে পারে। চেক দল মূলত তাদের উইং-ব্যাকদের আক্রমণাত্মক ব্যবহার এবং উইং থেকে আসা ক্রসগুলোকে কাজে লাগিয়ে ফিজিক্যাল ফুটবল খেলার পরিকল্পনা করছে। রক্ষণভাগে নেতৃত্ব দেবেন নতুন অধিনায়ক লাদিস্লাভ ক্রেচিসহ রবিন হ্রানাচ। মাঝমাঠে ওয়েস্ট হ্যামের টমাস সুচেক ও অভিজ্ঞ ভ্লাদিমির দারিদা কোরিয়ানদের রুখে দেওয়ার মূল দায়িত্ব পালন করবেন। আর আক্রমণভাগে বড় হুমকি বায়ার লেভারকুসেনের ফর্মে থাকা স্ট্রাইকার প্যাট্রিক শিক এবং দানবীয় ফরোয়ার্ড টমাস চোরি। চেকদের সম্ভাব্য একাদশে থাকতে পারেন কোভার, হোলেশ, হ্রানাচ, ক্রেচি, কুফাল, সুচেক, দারিদা, প্রোভোদ, জুরাসেক, শিক এবং সুলচ।
ফুটবল অ্যানালিস্ট ও অপটা সুপারকম্পিউটারের ডেটা অনুযায়ী, দুই দলের এই ম্যাচটি অত্যন্ত নিখুঁত এবং হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে। বেটিং মার্কেটগুলোতেও দুই দলের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় সমান সমান ধরা হচ্ছে। কোরিয়ানদের প্রধান শক্তি ওপেন-প্লে অ্যাটাক এবং কাউন্টার অ্যাটাকে গতি। লি কাং-ইনের ফাইনাল থার্ডের পাসিং এবং সন হিউং-মিনের ডি-বক্সের ভেতরের ফিনিশিং চেক ডিফেন্সের জন্য বড় পরীক্ষা হবে। এ ছাড়া মেক্সিকোর উচ্চতার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে কোরিয়া দল আগে থেকেই বিশেষ অনুশীলন করেছে, যা ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে তাদের স্ট্যামিনায় বাড়তি সুবিধা দেবে। চেকদের মূল শক্তি সেট-পিস এবং এরিয়াল ডমিনেন্স বা আকাশের বলের নিয়ন্ত্রণ। ইউরোপীয় বাছাইপর্বে তারা সেট-পিস থেকে রেকর্ড ১১টি গোল করেছে। প্যাট্রিক শিক ও টমাস সুচেকের উচ্চতা এবং হেড করার ক্ষমতা কোরিয়ান ডিফেন্সের দুর্বল জায়গায় আঘাত করতে পারে। যেহেতু এটি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ, তাই কোনো দলই শুরুতেই রক্ষণভাগ উন্মুক্ত করে অল-আউট আক্রমণে যাবে না। স্পোর্টস অ্যানালিস্টদের মতে, সনের একক নৈপুণ্য এবং চেকদের সেট-পিস গোলের ওপর ভিত্তি করে ম্যাচটি ১-১ বা ২-১ ব্যবধানে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
মন্তব্য করুন