হঠাৎ উত্থান, রাতারাতি তারকাখ্যাতি আর তারপর যেন রূপকথার মতো অদৃশ্য হয়ে যাওয়া বলিউড অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রীর ক্যারিয়ারকে এভাবেই সংজ্ঞায়িত করা যায়। ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ শুধু একটি প্রেমের ছবিই ছিল না, এটি ছিল ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক যুগান্তকারী ঘটনা। সালমান খানের সঙ্গে এই সিনেমা দিয়েই দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গেড়েছিলেন ভাগ্যশ্রী। সরলতা ও সৌন্দর্যের প্রতীক এই অভিনেত্রীর সামনে তখন পড়েছিল এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। কিন্তু ক্যারিয়ারের ঠিক সেই শীর্ষ মুহূর্তে তিনি এমন এক সিদ্ধান্ত নেন, যা আজও বলিউডের অন্যতম বড় ‘হয়তো’ ও বিস্ময়ের বিষয় হয়ে আছে।
অন্যান্য বলিউড নায়িকাদের চেয়ে ভাগ্যশ্রীর গল্পটি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। চলচ্চিত্র জগতে পা রাখার আগেই তিনি গভীরভাবে প্রেমে পড়েছিলেন ব্যবসায়ী হিমালয় দাসানির। আশির দশকের শেষভাগে ইন্ডাস্ট্রির প্রচলিত ধারণা ছিল নায়িকারা হয় সংসার করবেন, না হয় অভিনয় চালিয়ে যাবেন। কিন্তু ভাগ্যশ্রী দুই জগৎ একসঙ্গে ধরে রাখার পরিবর্তে বেছে নিয়েছিলেন নিজের প্রেম ও পরিবারকে। ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ মুক্তির সময় তিনি ইতিমধ্যেই বিবাহিত এবং সন্তানসম্ভবা ছিলেন। বিয়ের পর তিনি শর্ত দেন যে, চলচ্চিত্রে অভিনয় করলে কেবল স্বামী হিমালয়ের বিপরীতেই কাজ করবেন। পরবর্তী সময়ে ‘কায়েদ মে হ্যায় বুলবুল’, ‘পায়াল’ ও ‘ত্যাগী’র মতো ছবিগুলো সেই সিদ্ধান্তের ফল হলেও দর্শক তা সেভাবে গ্রহণ করেননি। বহু বছর পর ভাগ্যশ্রী নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তরুণ বয়সের সেই সিদ্ধান্তটি ছিল তাঁর ভুল, যা মূলধারার বলিউড ক্যারিয়ারের সম্ভাবনাকে থামিয়ে দিয়েছিল।
তাঁর এই সিদ্ধান্তে ভীষণ নিরাশ হয়েছিলেন যশ চোপড়া ও মনমোহন দেশাইয়ের মতো কিংবদন্তি নির্মাতারা। যশ চোপড়া তো তাঁর ওপর রীতিমতো রাগই করেছিলেন, আর মনমোহন দেশাই তাঁকে সানন্দে নতুন ছবিতে কাস্ট করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সমসাময়িক অভিনেত্রী জুহি চাওলাও একবার মজা করে তাঁকে বলেছিলেন যে, ভাগ্যশ্রী ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে না দিলে অনেকের জন্যই তা কঠিন হতো। তবে কর্মজীবনের এই বাঁক নিয়ে ভাগ্যশ্রীর মনে কোনো দীর্ঘস্থায়ী অনুশোচনা নেই। কিংবদন্তি পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করতে না পারার ছোটখাটো আক্ষেপ থাকলেও নিজের বিশ্বাসের জায়গায় তিনি অবিচল ছিলেন। তারকাখ্যাতির আলো স্বেচ্ছায় সরিয়ে রেখে পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভাগ্যশ্রীর এই গল্প আজও বলিউড প্রেমীদের মনে এক অন্যরকম অনুভূতির জন্ম দেয়।
মন্তব্য করুন