জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর পুনর্মূল্যায়ন আদেশের বিরুদ্ধে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক দাতব্য সংস্থা 'গ্রামীণ কল্যাণ'-এর দায়ের করা দুটি রিট আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ফলে এনবিআরের জন্য বকেয়া কর আদায়ের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার পথ সুগম হলো।
রায়ে বিচারকেরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট আইন মেনে অনতিবিলম্বে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে অনাদায়ী কর আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং রায় ও আদেশের কপি অবিলম্বে এনবিআর চেয়ারম্যানসহ বিবাদীদের কাছে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বকেয়া অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে অনতিবিলম্বে সংশ্লিষ্ট দাবি-সংক্রান্ত নোটিশ জারির নির্দেশনাও প্রদান করেন আদালত। হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে বলেন যে, ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী গ্রামীণ কল্যাণ চ্যালেঞ্জকৃত করবর্ষগুলোর জন্য রিটার্ন দাখিলের সময়ে যে কর পরিশোধ করেনি, তা স্বীকৃত বিষয়। অধ্যাদেশের ৭৪ ধারা অনুযায়ী সেই কর পরিশোধ করা তাদের আইনগত বাধ্যবাধকতা ছিল। ফলে গ্রামীণ টেলিকম উৎসে যে কর কেটেছে, সেটিকে নিজেদের কর পরিশোধ বলে দাবি করে গ্রামীণ কল্যাণের দায় এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুস সামাদ আজাদ জানান, রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পরই কর অঞ্চল-১৪-এর উপকর কমিশনার আয়কর আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষের ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধের তাগিদ দিয়ে গ্রামীণ কল্যাণকে লিখিত নোটিশ জারি করবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করা হলে আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য সম্পদ জব্দ করার মতো পদক্ষেপ নিতে পারবে এনবিআর।
অন্যদিকে, হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আপিল বিভাগ যদি হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেন, তবে তাদের বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে হবে না। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সাল থেকেই অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ কল্যাণ বা এর কোনো সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত নন। এর আগে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ কর্তৃক রায় প্রত্যাহারের পর নতুন বেঞ্চে শুনানির আয়োজন শেষে গত ১০ সেপ্টেম্বর সংক্ষিপ্ত রায় দেওয়া হয়েছিল, যার পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ আজ প্রকাশিত হলো।
মন্তব্য করুন