খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক নেতা পোপ চতুর্দশ লিও ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর ডান ফুসফুসের নিম্নাংশের টিউমার বা পিণ্ড অপসারণের জন্য আয়োজিত অস্ত্রোপচারের পর রক্ত ও টিস্যু পরীক্ষায় ক্যান্সারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে ভ্যাটিকান থেকে জানানো হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার রোমের বিখ্যাত জেমেলি হাসপাতালে ৭১ বছর বয়সী পোপের প্রায় ৯০ মিনিটব্যাপী এই জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।
চিকিৎসকদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, অস্ত্রোপচারের সময়ে সংগৃহীত টিস্যু পরীক্ষায় পোপের ফুসফুসে ‘অ্যাডেনোকার্সিনোমা’ নামের ক্যান্সার নিশ্চিত করা গেছে। ভ্যাটিকানের তরফ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় যে, অস্ত্রোপচারের মূল পর্বটি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং চিকিৎসকদের নিবিড় তদারকি ও পর্যবেক্ষণ শেষে পোপকে ইতিমধ্যে নিজ কক্ষে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভ্যাটিকানের মেডিকেল টিম সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত রুটিন শারীরিক পরীক্ষার সময়ে পোপের ডান ফুসফুসে একটি অতি ক্ষুদ্র নোডিউল বা ছোট পিণ্ড শনাক্ত করা হয়েছিল। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি শুরুতে অত্যন্ত নিরীহ প্রকৃতির মনে হলেও আমেরিকান থোরাসিক সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী এই ধরনের ক্ষুদ্র পিণ্ডের পাঁচ শতাংশেরও কম ক্ষেত্রে ফুসফুসের ক্যান্সারে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে পোপের ক্ষেত্রে বায়োপসি ও হিস্টোলজিক্যাল পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে জানা যায় যে এটি এক ধরণের ফুসফুসের অ্যাডেনোকার্সিনোমা, যা মূলত শ্বাসনালী ও ফুসফুসের শ্লেষ্মা উৎপাদনকারী কোষ থেকে তৈরি হয়।
আমেরিকান সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর তথ্যমতে, ফুসফুসের ক্যান্সারের যতগুলো ধরণ রয়েছে তার মধ্যে অ্যাডেনোকার্সিনোমা হলো সবচেয়ে বেশি দেখা দেওয়া ধরণ। বিশেষ করে জীবনে কখনো ধূমপান করেননি এমন মানুষদের ক্ষেত্রে ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশই এই অ্যাডেনোকার্সিনোমা প্রকৃতির হয়ে থাকে। ২০২৫ সালের মে মাসে নির্বাচিত হওয়া ৭১ বছর বয়সী পোপ লিও বয়সের বিচারে অন্যান্য পোপদের তুলনায় বেশ তরুণ ও কর্মক্ষম। তিনি নিয়মিত খেলাধুলা পছন্দ করেন এবং জীবনে কখনো ধূমপানের অভ্যাস বা বড় ধরণের স্বাস্থ্য জটিলতার সম্মুখীন হননি। পোপের সুচিকিৎসা ও দ্রুত আরোগ্য লাভে রোমের চিকিৎসক টিম সর্বোচ্চ নজরদারি রাখছেন।
মন্তব্য করুন