বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল 'মাছরাঙা টেলিভিশন'-এর অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেশের দুই শীর্ষ অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী এবং পরী মণির নামে তৈরি করা অত্যন্ত আপত্তিকর ও ভুয়া ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, সাইবার হামলার শিকার হয়ে তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছিল। তবে অ্যাকাউন্ট হ্যাকের দাবি সত্ত্বেও পৃষ্ঠার নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত থাকা এবং দেরিতে পদক্ষেপ নেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নানা ধোঁয়াশা।
অনুসন্ধানী ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা 'রিউমর স্ক্যানার'-এর প্রতিবেদনে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত ভিডিও দুটি সম্পূর্ণ কৃত্রিম ও সম্পাদিত। ফেস সোয়াপ প্রযুক্তি অর্থাৎ এআই ব্যবহার করে প্রাপ্তবয়স্কদের সাইটের মূল ভিডিওতে তারকাদের মুখমণ্ডল বসিয়ে এসব কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে। এডাল্ট সাইটের আসল সূত্রগুলো থেকে ভিডিওর উৎস নিশ্চিত হলেও সচেতনতার অংশ হিসেবে সেসব লিঙ্ক প্রকাশ্যে সংযুক্ত করা থেকে বিরত থেকেছে অনুসন্ধান দলটি।
গতকাল ভোররাতে আপত্তিকর এই ভিডিওগুলো আপলোড হওয়ার পর বিকেলে মুছে ফেলার আগ পর্যন্ত তা প্রায় চার লক্ষাধিকবার দেখা হয়ে যায়। হ্যাকিংয়ের ঘটনা এবং এ সংক্রান্ত আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়ার কথা ডেক্স থেকে জানানো হলেও, পুরো সময়টিতে ওই প্রোফাইল থেকে নিয়মিত ও পুরনো নিউজ কনটেন্ট আপলোড হতে দেখা যায়। এমনকি দুপুরেও দেখা গেছে অ্যাকাউন্টটি থেকে নতুন অ্যাকাউন্ট ফলো করা হচ্ছে। এই বৈপরীত্যের কারণে নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই পুরো ঘটনাকে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতা বা প্রাক্তন কোনো কর্মীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জের হিসেবে দেখছেন। অনেকে দুই অভিনেত্রীর ভাবমূর্তি নষ্টের দায়ে মাছরাঙা টিভির বিরুদ্ধে মানহানির আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও পরামর্শ দেন।
সামাজিক মাধ্যমে সাবেক এক কর্মীর নাম জড়িয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হলেও, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তা নাকচ করে জানান যে উল্টো তিনি নিজেই চ্যানেল কর্তৃপক্ষের সুবিধার্থে সমস্যা সমাধানে কারিগরি সহায়তা দিয়েছেন। দিনভর সমালোচনার পর অবশেষে গতকাল সন্ধ্যায় বিটিআরসি, সিআইডি এবং বনানী থানার সহায়তায় অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার ও সব আপত্তিকর ভিডিও সরিয়ে নেওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় মাছরাঙা টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে অনিচ্ছাকৃত এমন বিভ্রান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়।
তবে হ্যাক হওয়ার পরও কেন দীর্ঘ সময় ধরে প্রোফাইলে স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত ছিল কিংবা এ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি কেন সে প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব এখনো মেলেনি। অন্যদিকে এই স্পর্শকাতর পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ফেসবুকে 'সাইমা মাহি' নামের একটি বিভ্রান্তিকর পেজ থেকে পরী মণির নামে বানোয়াট রাজনৈতিক হুমকি সংক্রান্ত ভুয়া ফটোকার্ডও ছড়ানো হয়েছে, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই। প্রযুক্তির এমন অনৈতিক ও বিকৃত ব্যবহার নিয়ে বর্তমানে উদ্বেগে রয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও শোবিজ অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন