আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক আন্তর্জাতিক সভার ফাঁকে চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রতিনিধিবৃন্দের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ঋণভিত্তিক মডেল থেকে সরে এসে যৌথ ও সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) দিকে জোর দিচ্ছে। নতুন এই অর্থায়ন কাঠামোর আওতায় ঋণের চেয়ে মালিকানাভিত্তিক বা ইকুইটি বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘ ও গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌম ঋণ গ্রহণ ও ঋণনির্ভর অর্থায়নের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে কীভাবে দুদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও ফলপ্রসূ করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা গুরুত্ব পেয়েছে। সরকার এমন একটি অর্থায়ন কৌশল প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে, যেখানে কেবল ঋণ নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশ যৌথভাবে প্রকল্পের স্বত্বাধিকারী হিসেবে অংশীদার হবে। এতে ভবিষ্যতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি ঋণের বোঝা কমানো সম্ভব হবে, যদিও নতুন এই কাঠামো বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বা প্রকল্পের তালিকা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
একই দিন আয়োজিত আলাদা একটি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্র্যাজরি বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ ও জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং অর্থনৈতিক সহনশীলতা বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য ও অনুদান বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে, যা মার্কিন প্রতিনিধিদল ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।
এর পাশাপাশি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন অর্থমন্ত্রী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বা ইফাদের মাধ্যমে কৃষি খাতের সম্ভাব্য অর্থায়নের নির্দিষ্ট পরিমাণ ও প্রকল্প নকশা সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরবর্তী আনুষ্ঠানিক সেশনে নীতি নির্ধারণের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।
মন্তব্য করুন