ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি চরম প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল (পিসিবি)। লন্ডনে চলমান একটি গোপন তদন্তের অংশ হিসেবে এবার জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের মোবাইল ফোন জব্দ করেছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। আধুনিক ক্রীড়া ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কোনোভাবেই খাপ না খাওয়া এই নজিরবিহীন পদক্ষেপকে অনেকেই কারাগারের কঠোর শৃঙ্খলার সঙ্গে তুলনা করছেন।
লর্ডসে ১৯৪ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদকে সরিয়ে দেওয়া এবং সাতজন সিনিয়র খেলোয়াড়কে আকস্মিক দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এই ঘটনা ঘটল। ৩৬৫ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন করে গঠিত ১৬ সদস্যের দলের ক্রিকেটারদের মৌলিক যোগাযোগের মাধ্যম মোবাইল ফোনগুলো নিজেদের হেফাজতে নিয়েছেন বোর্ড কর্মকর্তারা। এজবাস্টনে সিরিজের শেষ বলটি গড়ানো পর্যন্ত এই ফোনগুলো পিসিবির কড়া নিরাপত্তায় তালাবদ্ধ থাকবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজ চলাকালীন খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দের এমন ঘটনা বিশ্ব ক্রিকেটে বিরল এবং এটি বোর্ডের ভেতরের গভীর অবিশ্বাসের ছবিই স্পষ্ট করে তোলে।
পর্দার আড়ালে চলা এই গোপন তদন্তের নেপথ্য কারণ যা-ই থাকুক না কেন, বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ এই টেস্ট ম্যাচের আগে দলের মূল প্রস্তুতিকে সম্পূর্ণ ম্লান করে দিয়েছে এই ঘটনা। এমনিতেই দল থেকে তারকা খেলোয়াড়রা বাদ পড়ায় বেশ ফাঁকা ও বিপর্যস্ত অবস্থায় থাকা দলটি হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর মিশনে রয়েছে। এর ওপর মাঠের বাইরের এমন নাটকীয়তায় খেলোয়াড়দের মনোযোগ এখন ইংলিশ পেস আক্রমণের মোকাবিলা করার চেয়ে প্রশাসনিক কড়াকড়ি সামলানোর দিকেই বেশি ঝুঁকছে। গণমাধ্যমে তথ্য ফাঁস বা অভ্যন্তরীণ কোনো ষড়যন্ত্র ঠেকাতে বোর্ড এমন কঠোর অবস্থান নিলেও ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের পারস্পরিক আস্থার যে চরম অবনতি ঘটেছে, তা এই ঘটনার মধ্য দিয়ে অত্যন্ত নগ্নভাবে প্রকাশ পেয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ মাইক হেসনের অধীনে কৌশলগত সংকট কাটিয়ে ওঠার লড়াইয়ে থাকা পাকিস্তান দল মাঠের খেলার চেয়ে এখন মাঠের বাইরের প্রশাসনিক জটিলতা নিয়েই বেশি ব্যস্ত সময় পার করছে।
মন্তব্য করুন