ভারতের মহারাষ্ট্রে আইনিভাবে নিষিদ্ধ পণ্য ‘পান মসলা’ পরোক্ষভাবে প্রচার বা সারোগেট অ্যাডভার্টাইজিংয়ের গুরুতর অভিযোগে বলিউডের তিন জনপ্রিয় সুপারস্টার শাহরুখ খান, অজয় দেবগন এবং টাইগার শ্রফকে কারণ দর্শানোর অফিসিয়াল নোটিশ পাঠিয়েছে রাজ্যটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তুকারাম মুন্ধের নেতৃত্বে পরিচালিত এই কড়া খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থার পক্ষ থেকে প্রেরিত ৯ পৃষ্ঠার দীর্ঘ নোটিশে সংশ্লিষ্ট অভিনেতাদের অবিলম্বে এই ধরনের বিজ্ঞাপনী প্রচার কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণ সরে দাঁড়ানোর কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের নিজ নিজ ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টগুলো থেকে এই সংক্রান্ত যাবতীয় প্রচারমূলক কনটেন্ট, ভিডিও ও পোস্ট দ্রুত মুছে ফেলারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ২০২৪ সালে, যখন পান মসলা প্রস্তুতকারক জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান ‘বিমল’-এর এলাচির একটি যৌথ বিজ্ঞাপনে এই তিন অভিনেতাকে একসঙ্গে পর্দায় দেখা গিয়েছিল। এফডিএ-র প্রেরিত নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিজ্ঞাপনটি বাহ্যত ‘বিমল এলাচি’র নামে প্রচার করা হলেও মূলত ‘বিমল’ ব্র্যান্ডটি ভোক্তাদের কাছে পান মসলার সঙ্গেই গভীরভাবে পরিচিত ও সম্পৃক্ত। মহারাষ্ট্র রাজ্যে পান মসলার উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন, বণ্টন ও বিক্রয় সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হওয়ায় এই ধরনের বিজ্ঞাপনী ব্যবহার সাধারণ ভোক্তাদের দারুণভাবে বিভ্রান্ত করতে পারে এবং এটি পরোক্ষভাবে একটি নিষিদ্ধ পণ্যের মূল ব্র্যান্ডকেই বাজারজাতকরণে সহায়তা করছে। ভুল তথ্যভিত্তিক, বিভ্রান্তিকর ও সারোগেট বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অপরাধে ভারতের রাজ্যটির প্রচলিত ভোক্তা অধিকার আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত এই তারকাদের ১০ লাখ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ রুপি পর্যন্ত বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা হতে পারে। এছাড়া বিজ্ঞাপনী প্রচারণায় তাদের যেকোনো ধরনের অংশগ্রহণে সর্বোচ্চ ৩ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণার আইনি বিধানও রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে এফডিএ কর্তৃপক্ষ উক্ত তারকাদের কাছে তাদের স্পন্সরশিপের মূল চুক্তিপত্র, প্রচার-সংক্রান্ত যাবতীয় বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যটি বিজ্ঞাপনের আগে তারা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করেছিলেন কি না, তার অকাট্য প্রমাণাদি তলব করেছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২২ সালে বিমল এলাচির একই ধরনের বিতর্কিত বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন আরেক শীর্ষ বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমার। সে সময় ব্যাপক জনরোষের মুখে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ভক্ত ও অনুসারীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে করা বিজ্ঞাপন চুক্তি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে এসে প্রাপ্ত সমুদয় পারিশ্রমিক জনকল্যাণমূলক কাজে দান করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এখন শাহরুখ, অজয় ও টাইগার শ্রফ এফডিএ-র এই কঠোর নোটিশের বিপরীতে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেন এবং এই বিতর্কের কীভাবে অবসান ঘটে, সেটাই দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন