গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার বিশাল রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন ও বিতর্কের সৃষ্টি করা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রবিবার (১২ জুলাই) রাতে সিআইডির একটি বিশেষ দল পলাশবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে এবং পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় নিয়ে যায়। পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান জানিয়েছেন, ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা একটি মানিলন্ডারিং মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের অতীত কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি দীর্ঘ সময় ধরেই বিভিন্ন প্রতারণার সাথে জড়িত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, প্রভাবশালীদের নাম ভাঙিয়ে এবং ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বদলি-বাণিজ্য ও টেন্ডার দুর্নীতির মতো অপরাধে তার নাম একাধিকবার এসেছে। ২০২২ সালেও র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি, যখন তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যের ভুয়া প্রটোকল অফিসার সেজে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা গেছে।
তদন্তকারীদের নথিপত্র অনুযায়ী, বগুড়ার শিবগঞ্জের বাসিন্দা এই ব্যক্তি এক সময় এসি মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তীতে তিনি ধর্ম পরিবর্তন করে ‘তাওহীদ ইসলাম’ নাম গ্রহণ করেছিলেন বলেও তথ্য পাওয়া যায়। সম্প্রতি তার নির্মিতব্য বিতর্কিত রামমূর্তি ও মন্দির প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যবহৃত অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং স্থানীয় পর্যায়ে এর বৈধতা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়।
পলাশবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাকে ঘিরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, এই গ্রেফতারের মাধ্যমে তা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সিআইডির মানিলন্ডারিং মামলার তদন্তের মাধ্যমে তার বিপুল সম্পদের উৎস এবং প্রতারণার জাল উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। এখন দেখার বিষয়, আইনগত প্রক্রিয়ায় তার এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও অর্থের রহস্য কতটা বেরিয়ে আসে।
মন্তব্য করুন