২০২৬ বিশ্বকাপের দামামা বাজার আগেই নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিল ব্রাজিল। ফ্লোরিডার ক্যাম্পিং ওয়ার্ল্ড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে মাঠ ছেড়েছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। এই জয়টি সেলেসাওদের জন্য কেবল একটি জয় নয়, বরং আগামী ১৮ মে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেওয়ার এক মোক্ষম দাওয়াই হিসেবে কাজ করবে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল এবং আক্রমণের ধার বজায় রেখেছিল ব্রাজিল। যদিও গোল পেতে তাদের প্রথমার্ধের যোগ করা সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। ভিনিসিয়াসের তৈরি করে দেওয়া এক চমৎকার প্রতি-আক্রমণ থেকে বল পেয়ে জাল খুঁজে নেন দানিলো সান্তোস। তার এই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধের এই লিড ম্যাচজুড়ে ব্রাজিলের আধিপত্যের ভিত গড়ে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধের লড়াই ছিল বেশ নাটকীয়। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল ব্রাজিল হয়তো ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে, কিন্তু ৮৪তম মিনিটে লোভরো মাজের গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান। তবে সমতায় ফেরার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি ক্রোয়াটদের। মাত্র এক মিনিট পরেই পেনাল্টি পায় ব্রাজিল, যা থেকে নিখুঁত শটে গোল করেন বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা ইগর থিয়াগো। ম্যাচে লিড ফিরে পেয়ে ব্রাজিল আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।
ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে ব্রাজিলের জয়ের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। তরুণ তারকা এনড্রিক নিজে গোল না পেলেও পুরো ম্যাচে তার উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া, আর শেষ গোলটিতেও ছিল তার দারুণ অবদান। এনড্রিকের পাসে পাওয়া বল জালে পাঠিয়ে ৩-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করেন আর্সেনাল ফরোয়ার্ড মার্তিনেল্লি। সব মিলিয়ে মাঠের কৌশল আর তারুণ্যের মিশেলে ব্রাজিল এক দাপুটে ফুটবল প্রদর্শন করেছে।
আগামী ১১ মে ফিফার কাছে ৫৫ জনের প্রাথমিক তালিকা দেবেন কোচ আনচেলত্তি। এরপর ৩১ মে ঘরের মাঠ মারাকানায় পানামার বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দেবে দলটি। ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ব্রাজিলের বহুল প্রতীক্ষিত হেক্সা মিশন। ভক্তদের প্রত্যাশা, প্রস্তুতি পর্বের এই ছন্দ বিশ্বকাপেও ধরে রাখবে হলুদ-নীল জার্সিধারীরা।
মন্তব্য করুন