বরিশালের মুলাদীতে অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ত্রাণের চালের ভাগাভাগি নিয়ে এক ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। নদীভাঙন কবলিত মানুষের জন্য আসা চাল বিতরণের তালিকায় নিজেদের হিস্যা না মেলায় ইউনিয়ন পরিষদের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে (ইউপি সচিব) মারধর এবং প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার মুলাদী সদর ইউনিয়ন পরিষদে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন সিকদার জানান, ঘটনার সময় তিনি তার কার্যালয়ে বসে নদীভাঙন কবলিত ১৫০ জন দুস্থ মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ৩ টন চালের সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করছিলেন। এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব বেল্লাল হোসেন সরদার ও সুজন চৌকিদারসহ ৫-৬ জন নেতাকর্মী আকস্মিক তার কক্ষে প্রবেশ করেন। কার অনুমতিতে এই তালিকা করা হচ্ছে—তা জানতে চেয়ে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে সরকারি কাজে বাধা দিয়ে তাকে চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুসি মেরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় তারা ওই কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকিও দেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কর্মকর্তা বাদী হয়ে মুলাদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নদীভাঙন কবলিতদের জন্য ২০ কেজি করে মোট ৩ টন চাল বরাদ্দ হয়েছিল। ছাত্রদল নেতা বেল্লাল সরদার মোট বরাদ্দের ২০ শতাংশ অর্থাৎ ৩০ জনের তালিকা নিজের মতো করে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরিষদ থেকে তাকে প্রথমে ২০ জন এবং পরে চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় ২৫ জনের নাম দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যান পরিষদ থেকে বের হওয়ার পরপরই বেল্লাল সরদার প্রশাসনিক কর্মকর্তার ওপর চড়াও হন। ভুক্তভোগী কর্মকর্তা আরও অভিযোগ করেন, এই ছাত্রদল নেতা এর আগেও ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় ভিজিএফ চালের ৫০ শতাংশ দাবি করেছিলেন এবং দরিদ্র নারীদের ভিডব্লিউবি কার্ড জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়েছিলেন।
অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা ছাত্রদল সদস্য সচিব বেল্লাল হোসেন সরদার। তিনি দাবি করেন, মারধর কিংবা হুমকির কোনো ঘটনার সাথে তিনি জড়িত নন এবং ঘটনার দিন তিনি পরিষদেও যাননি। আগামীতে মুলাদী সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেওয়ায় রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে তার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ ও জিডি করা হয়েছে বলে তিনি পাল্টা দাবি করেন।
মুলাদী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. কামরুল আহসান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার উভয়ই বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। ইউএনও জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর জিডির কপি আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা জানিয়েছেন, ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দুস্থদের ত্রাণ নিয়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় তুলেছে।