চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছিটকে গেছে দুটি দেশ. গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে তুরস্ক. অন্যদিকে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে হাইতির. হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের এই দাপুটে জয় একই সাথে গ্রুপ ‘ডি’ থেকে আমেরিকার দ্বিতীয় রাউন্ড বা নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে দিয়েছে. মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দিলেও টানা দুই ম্যাচে কোনো পয়েন্ট না পাওয়ায় গ্রুপ পর্বের এক ম্যাচ বাকি থাকতেই বিদায় নিতে হলো এই দুই দলকে.
শক্তির বিচারে ব্রাজিলের চেয়ে অনেক পিছিয়ে থাকা হাইতি বড় ব্যবধানে হারবে, এটাই ছিল সবার প্রত্যাশা. ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিট প্রতিপক্ষকে একটু দেখে নেওয়ার পর বল এবং ম্যাচের পুরো গতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় সেলেসাওরা. পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের দাপটের সামনে হাইতিকে স্রেফ দর্শকের মতো দেখিয়েছে.
ফুটবল দক্ষতায় অনেক এগিয়ে থাকা ব্রাজিলের বিরুদ্ধে হাইতি অবশ্য সাধ্যমতো লড়াই করার চেষ্টা করেছে এবং অকারণে রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলেনি. ম্যাচের ৬৩ মিনিটে কর্নার থেকে প্রায় একটি গোলও পেয়ে যাচ্ছিল হাইতি, তবে ব্রাজিলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার দারুণভাবে তা বাঁচিয়ে দেন.
ব্রাজিলের গোল উৎসবের বিবরণ: খেলার ২৩ মিনিটে ভিনিসিউস জুনিয়নের একটি শট হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিড প্রতিহত করেন. কিন্তু বক্সের সামনে বল পেয়ে যান ডিফেন্ডার হানেস ডেলক্রোইক্স. তিনি বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রায় আত্মঘাতী গোলই করে বসছিলেন. তাঁর পায়ে লেগে গোলমুখী হওয়া বলটিতে ম্যাথেউস কুনহা আলতো পায়ের ছোঁয়া দিলে তা সামান্য দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়.
ম্যাচের ৩৬ মিনিটে ব্রাজিলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটিও করেন এই কুনহাই. মাঝমাঠে প্রতিপক্ষ ফুটবলারের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে একক দৌড়ে দুর্দান্ত এক বাঁ পায়ের শটে গোল করেন তিনি. এরপর প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (ইঞ্জুরি টাইম) আরও একটি গোল করে ব্রাজিলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিউস জুনিয়র.
দিনের অন্য ম্যাচে তুরস্কের মুখোমুখি হয়েছিল লাতিন আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে. এই ম্যাচে প্যারাগুয়ের ১-০ গোলের জয়ের সুবাদে গ্রুপ ‘ডি’ থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে বা নকআউট পর্বে উঠে গেছে আমেরিকা.
ম্যাচ শুরুর মাত্র ৬৫ সেকেন্ডে (১ মিনিট ৫ সেকেন্ড) তুরস্কের জালে বল পাঠিয়ে প্যারাগুয়েকে এগিয়ে নেন গালারজ়া. এটি এখন পর্যন্ত চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলের রেকর্ড. এর মাত্র ৫ ঘণ্টা আগে মরক্কোর খেলোয়াড় সাইবারি যে দ্রুততম গোলের রেকর্ডটি গড়েছিলেন, তা ভেঙে দেন গালারজ়া.
ম্যাচে নাটকীয়তা তৈরি হয় যখন প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে প্যারাগুয়ের তারকা খেলোয়াড় মিগুয়েল অ্যালমিরন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন. এর ফলে পুরো দ্বিতীয়ার্ধ ১০ জনের দল নিয়ে খেলতে হয়েছে প্যারাগুয়েকে. একজন খেলোয়াড় বেশি থাকার এই বিশাল সুবিধাজনক সুযোগ পেয়েও ম্যাচে সমতা ফেরাতে পারেনি তুরস্কের আক্রমণভাগ. শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের হার নিয়ে এবং দুই ম্যাচ খেলে কোনো পয়েন্ট না পাওয়ায় বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় তুরস্কের.
মন্তব্য করুন