দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর জাতীয় দলের ওয়ানডে স্কোয়াডে ফিরে ক্রিকেট পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলতি সিরিজে ব্যাট হাতে রীতিমতো রানের ফোয়ারা ছুটিয়েছেন স্পিনিং অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। মাত্র ৬ দিনের ব্যবধানে ছয়বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে দুটি অনবদ্য ফিফটির দেখা পেয়েছেন তিনি। ২০১৬ সালে ওয়ানডে অভিষেকের পর ক্যারিয়ারের প্রথম দশ বছরে ৪৩ ম্যাচ খেলে যেখানে মোসাদ্দেকের ফিফটি ছিল মাত্র ৩টি, সেখানে এই সিরিজে কামব্যাক করেই ছয় দিনে করলেন জোড়া হাফ-সেঞ্চুরি। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৮৬ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলার পর আজ রবিবারের শেষ ম্যাচেও তাঁর ব্যাট থেকে আসে মূল্যবান ৫৬ রান। মোসাদ্দেকের এই অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা মিডল অর্ডারে বাংলাদেশ দলকে দারুণ এক স্বস্তি এনে দিয়েছে।
এদিকে একই ম্যাচে হোম অব ক্রিকেট মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের এক অদ্ভুত খরা কাটালেন অভিজ্ঞ ওপেনার লিটন কুমার দাস। এই মাঠে এর আগে ২৮ ম্যাচের ২৭ ইনিংসে ব্যাটিং করেও কোনো ফিফটি ছিল না তাঁর; অবশেষে ২৮তম ইনিংসে এসে মিরপুরের মাটিতে প্রথম ওয়ানডে ফিফটির স্বাদ পেলেন লিটন। শেষ পর্যন্ত তিনি ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন। এছাড়া দলের পক্ষে আজ ব্যাট হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন মিডল অর্ডার ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়, যিনি ৮৮ বলে খেলেন সর্বোচ্চ ৮৩ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস। এই তিন তারকার নান্দনিক ফিফটির ওপর ভর করে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ৫ উইকেটে ২৭৪ রানের বড় পুঁজি সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। এর আগে টানা ছয় ম্যাচে টস হারার পর আজ অবশেষে কয়েনভাগ্যের সহায়তা পান ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। নিয়মিত অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের কনকাশন ইনজুরির কারণে এই ম্যাচে টস করতে নেমে শান্ত ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং ব্যাটাররা তাঁর সেই সিদ্ধান্তের পূর্ণ মর্যাদা দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন