ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে ২০২৬ সালের এই মেগা আসর। প্রথমবারের মতো ১৬, ২৪ কিংবা ৩২ দলের চেনা গণ্ডি পেরিয়ে এবার মোট ৪৮টি দেশ অংশ নিচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের এই মহাযজ্ঞে। দলসংখ্যা বাড়ার ফলে যেমন অনেক ছোট দেশের জন্য বিশ্বমঞ্চের দরজা উন্মুক্ত হয়েছে, তেমনি পুরোনো অর্জনের সাথে বর্তমান সাফল্যের সরাসরি তুলনা করার বিষয়টিও বেশ জটিল হয়ে পড়েছে। হাইতির বিপক্ষে স্কটল্যান্ডের সাম্প্রতিক জয় তাদের নকআউট পর্বের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করলেও, ৪৮ দলের টুর্নামেন্টে কেবল শেষ ৩২ বা শেষ ১৬-তে ওঠাই দলটির সর্বকালের সেরা সাফল্য নয়। কারণ স্কটল্যান্ড অতীতে ১৬ দলের বিশ্বকাপেও অংশ নিয়েছিল। ফলে প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিবেচনা করলে, রাউন্ড অব ১৬ অতিক্রম করে কোয়ার্টার-ফাইনালে পা রাখতে পারলেই কেবল স্কটিশরা সত্যিকারের নতুন ইতিহাস লিখতে পারবে। শুধু স্কটল্যান্ডই নয়, এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের প্রত্যেকের সামনেই রয়েছে তাদের অতীতের সেরা অর্জনকে ছাড়িয়ে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করার কঠিন ও রোমাঞ্চকর সমীকরণ।
বিশ্বকাপজয়ী সাত পরাশক্তি ব্রাজিল, জার্মানি, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, উরুগুয়ে, ইংল্যান্ড ও স্পেনের সামনেও এবার ভিন্ন আঙ্গিকে ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে। যেমন আর্জেন্টিনা তিনবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও কখনো টানা দুইবার শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি, যা এবার তারা করতে মুখিয়ে আছে। অন্যদিকে মেক্সিকো, ঘানা বা কলম্বিয়ার মতো কোয়ার্টার-ফাইনালিস্টদের লক্ষ্য থাকবে সেমিফাইনালে ওঠা। আবার এশিয়া ও আফ্রিকার দুই জায়ান্ট দক্ষিণ কোরিয়া এবং মরক্কো ২০২২ সালের আসর পর্যন্ত সর্বোচ্চ চতুর্থ স্থান অর্জন করেছিল; ফলে তাদের ইতিহাস গড়তে হলে অন্তত ফাইনালে পা রাখতে হবে। এছাড়া নিউজিল্যান্ড, কানাডা কিংবা ইরাকের মতো দলগুলো যারা অতীতে ২৪ দলের বিশ্বকাপে খেলেছিল, তাদের অতীতকে ছাড়িয়ে যেতে অন্তত শেষ ১৬ নিশ্চিত করতে হবে। কাতার ইতিমধ্যেই সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে তাদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট অর্জন করে নতুন যাত্রা শুরু করেছে। অন্যদিকে কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান ও উজবেকিস্তানের মতো অভিষিক্ত দলগুলোর জন্য যেকোনো জয় বা নকআউটে ওঠাই হবে এক অনন্য রূপকথা। সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপ কেবল ট্রফি জয়ের লড়াই নয়, বরং প্রতিটি দেশের জন্য ফুটবল মানচিত্রে নিজেদের ইতিহাস নতুন করে লেখার এক মহাকাব্যিক মঞ্চ।
মন্তব্য করুন