জাতীয় অর্থনীতি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হিসেবে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ রবিবার (১৪ জুন) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ (UNICEF) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ এডুকেশন সেক্টর অ্যানালাইসিস (ইএসএ)’ বিষয়ক একটি জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। বাজেটে শিক্ষা খাতের গুরুত্বকে উপহাস ও চমকপ্রদ ভঙ্গিতে তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এবারের বাজেটে সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে তিনটি বিষয়কে। আর সেই তিনটি বিষয়ই হলো প্রথমত শিক্ষা, দ্বিতীয়ত শিক্ষা এবং তৃতীয়তও শিক্ষা।’ সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণের কথা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে এই বিশাল বরাদ্দের জন্য তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান। একই সাথে ইউনিসেফের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশে এখনো প্রাথমিক স্তরের প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মাধ্যমিক স্তরের ১৩ শতাংশের বেশি শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ লাখ শিশু-কিশোর মূলধারার শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত, যার মধ্যে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের সংখ্যাই বেশি এবং এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স দেশের সুবিধাবঞ্চিত, প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দুর্গম অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষাবঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং তাদের শিক্ষার আলোয় আনতে বিশেষ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের আহ্বান জানান। কর্মশালায় সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে সরকারের বেশ কিছু মেগা পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, দ্রুতই দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রি-প্রাইমারি শিক্ষা চালু করা হবে এবং আগামী বছরের মধ্যে সারা দেশের স্কুলগুলোতে পুষ্টিকর ‘মিড-ডে মিল’ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব স্কুলকে ডাবল শিফট থেকে সিঙ্গেল শিফটে রূপান্তর করা হবে, যেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোই সাধারণ মানুষের প্রথম পছন্দে পরিণত হয়। শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সমন্বিত রোডম্যাপ দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
মন্তব্য করুন