আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী সাহিবে নেসাব বা সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের ওপর সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। সাধারণত ১ শাওয়াল ফজর উদয়ের সময় জীবনধারণের মৌলিক প্রয়োজন ও ঋণ বাদে যদি কারো কাছে সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমমূল্যের অতিরিক্ত সম্পদ থাকে, তবেই তার ওপর ফিতরা আবশ্যক হয়। এ বছর (১৪৪৭ হিজরি/২০২৬ সাল) রুপার বাজারদর অনুযায়ী জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া ঢাকার ফতোয়া বিভাগ জাকাত ও ফিতরার নেসাব নির্ধারণ করেছে ২,৩০,০০০ টাকা। অর্থাৎ, ঈদের দিন সকালে যদি কোনো মুসলিমের কাছে এই পরিমাণ নগদ অর্থ বা সমমূল্যের অপ্রয়োজনীয় আসবাব ও ভূ-সম্পত্তি থাকে, তবে তাকে অবশ্যই ফিতরা দিতে হবে।
হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরিবারের কর্তা ব্যক্তি তার নিজের এবং তার ওপর নির্ভরশীল নাবালগ সন্তানদের পক্ষ থেকে এই সদকা আদায় করবেন। সাদাকাতুল ফিতর মূলত আটা, যব, কিসমিস, খেজুর বা পনির এই পাঁচটি পণ্যের যেকোনো একটি দিয়ে বা তার বাজারমূল্য পরিশোধের মাধ্যমে আদায় করা যায়। এ বছর জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার হিসাব অনুযায়ী আটার মানদণ্ডে জনপ্রতি ফিতরা ১০০ টাকা এবং কিসমিসের মানদণ্ডে সর্বোচ্চ ২,৮০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে জাতীয় সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী, এ বছর সর্বনিম্ন ফিতরার হার ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২,৮০৫ টাকা।
উল্লেখ্য যে, ফিতরা আদায়ের মূল উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম পালনের ভুলত্রুটি মার্জনা এবং সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। সামর্থ্যবানদের জন্য উত্তম হলো নিজেদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে আটার পরিবর্তে কিসমিস, খেজুর বা পনিরের মূল্যে ফিতরা আদায় করা, যাতে দরিদ্ররা বেশি উপকৃত হতে পারে। এই অর্থ ঈদের নামাজের আগেই অভাবীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া সুন্নত, যাতে তারা এটি দিয়ে ঈদের উৎসবে শামিল হতে পারে।
মন্তব্য করুন