ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হওয়ার পর গত ১০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪০ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে পেন্টাগন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ, ২০২৬) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, আহতদের মধ্যে ১০৮ জনের আঘাত তুলনামূলক হালকা হওয়ায় তারা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুনরায় দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। তবে আটজন সেনার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পেন্টাগন আরও নিশ্চিত করেছে যে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সাতজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ নিহত সেনার মরদেহ সোমবার বিশেষ বিমানে ডেলাওয়ারের ডোভার বিমানঘাঁটিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মুখপাত্র পারনেল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুদ্ধের ময়দানে অনেক সময় জখম হওয়ার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ পায় না, বিশেষ করে মাথায় আঘাত বা মানসিক ট্রমার মতো বিষয়গুলো পরে শনাক্ত হয়। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আহতের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানি বাহিনীর ড্রোন ও মিসাইল হামলার মুখে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে ইরাক, কাতার ও বাহরাইনের ঘাঁটিগুলোতে অবস্থানরত সেনাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, আহত ও নিহত সেনাদের পরিবারের সঙ্গে তারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হতাহতের সংখ্যা বাড়লেও ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন