চলতি ক্রিকেট সিরিজে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরুতেই দুর্দান্ত বোলিং প্রদর্শন করে পাওয়ারপ্লে-র ভেতরেই অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারের তিন উইকেট তুলে নিয়েছিল টাইগারেরা, যা অজিদের বেশ ভালো চাপের মুখে ফেলে দেয়। তবে শুরুর সেই বিপর্যয় কাটিয়ে চতুর্থ উইকেট জুটিতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা। দুই অজি ব্যাটার ম্যাট রেনশো এবং টিম ডেভিডের আগ্রাসী ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে দ্রুত রানের চাকা সচল করে অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত রেনশো মাঠের চারদিকে ঝোড়ো ব্যাটিং চালিয়ে যান এবং নির্ধারিত ওভার শেষে বাংলাদেশকে ১৯৭ রানের একটি বিশাল লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় অস্ট্রেলিয়া দল।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা মোটেও আশানুরূপ ছিল না। ইনিংসের প্রথম ৬ ওভারে বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত ও আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের সামনে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে অজিরা। তবে স্বাগতিকদের সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি ম্যাট রেনশো ও টিম ডেভিড। চতুর্থ উইকেটে এই দুই ব্যাটার মিলে বাংলাদেশি বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। উইকেট বাঁচানোর পাশাপাশি ওয়ানডে বা টি২০ সুলভ আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলের বড় স্কোরের ভিত্তি গড়ে দেন তাঁরা। টিম ডেভিড দ্রুত রান তুলে বিদায় নিলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে অজিদের রানের পাহাড় সচল রাখেন রেনশো।
শুরুর চাপ সামলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে তুলে নেন ম্যাট রেনশো। শেষ পর্যন্ত উইকেটে টিকে থেকে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান এই অজি ব্যাটার। তিনি মাত্র ৫২ বল খেলে মুখোমুখি হয়ে ৮৯ রানের এক অনবদ্য ও বিধ্বংসী ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। রেনশোর এই ঝোড়ো ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই অস্ট্রেলিয়া বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয় এবং বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য ১৯৭ রানের কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়। চাপের মুখে কীভাবে ম্যাচ বের করতে হয়, রেনশোর এই ইনিংসটি যেন আরও একবার তারই প্রমাণ দিল।
মন্তব্য করুন