দেশের সাধারণ ও অসচ্ছল মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সেবা পৌঁছে দেওয়া সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। যারা নিজেদের পক্ষে মামলার জন্য আইনজীবী নিয়োগ করার আর্থিক সামর্থ্য রাখেন না, তারা সরকারি হেল্পলাইন নম্বরে কল করে সহজেই এই সহায়তা পেতে পারেন। শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে সাভারের বিরুলিয়া খাগান এলাকায় আয়োজিত একটি কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান। আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের আদালতগুলোতে বিদ্যমান বিপুল পরিমাণ মামলার জট দূর করতে সরকারি লিগ্যাল এইড বিভাগ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা মিডিয়েশনের মাধ্যমে একদিকে যেমন নতুন মামলার সংখ্যা কমছে, অন্যদিকে চলমান মামলার জটও ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে।
আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্যহীনদের জন্য একটি বিশেষ টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বরের কথা স্মরণ করিয়ে দেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, যেকোনো অসচ্ছল বিচারপ্রার্থী ১৬৯ নম্বরে কল করে সরাসরি সরকারি আইনি সহায়তা বা লিগ্যাল এইড সেবা লাভ করতে পারেন।
বর্তমানে দেশের আদালতগুলোতে জমে থাকা প্রায় ৪০ লাখ মামলার জট ভাঙতে লিগ্যাল এইডকেই একমাত্র ও অন্যতম প্রধান সমাধানের পথ হিসেবে দেখছেন মন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মিডিয়েশনের (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি) মাধ্যমে নতুন মামলার ফাইলিং যেমন কমছে, তেমনি বিদ্যমান বা এক্সজিস্টিং মামলার সংখ্যাও নিয়ন্ত্রণে আসছে। তবে সমাজে স্থায়ীভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এই দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপে কিছুটা সময় লাগবে এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনের প্রয়োজন হবে।
বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও গুণগত মান বাড়াতে আইনজীবীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এবং একটি ব্রিটিশ ল ফার্মের মধ্যে ইতিমধ্যেই একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।
বাজেট বরাদ্দের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী জানান, দেশের বিচার বিভাগ প্রতি বছর রাষ্ট্রকে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিলেও এর বিপরীতে বাজেট বরাদ্দ পায় মাত্র ২২০০ কোটি টাকা। তৃণমূল পর্যায়ে লিগ্যাল এইড সেবা আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে এই খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আইনমন্ত্রী বাংলাদেশে সরকারি আইনি সহায়তার ঐতিহাসিক পটভূমি স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আন্তরিক উদ্যোগে বাংলাদেশে প্রথম লিগ্যাল এইডের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই ঐতিহাসিক ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগকে আরও গতিশীল এবং দেশব্যাপী সম্প্রসারিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন