দীর্ঘ ২৪ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিশ্বফুটবলের মহারণ বিশ্বকাপে পা রাখলেও, নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে তুরস্ক শিবিরে দেখা দিয়েছে চরম ইনজুরি আতঙ্ক ও গভীর উদ্বেগ। দলের দুই প্রধান স্তম্ভ
ইন্টার মিলানের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার হাকান চালহানোগ্লু এবং জুভেন্টাসের তরুণ ফরোয়ার্ড কেনান ইয়িলদিজের ম্যাচ ফিটনেস ও স্থায়িত্ব নিয়ে স্পষ্ট সংশয় প্রকাশ করেছেন তুরস্ক জাতীয় দলের (এ মিলি তাকীম) ইতালিয়ান কোচ ভিনচেনজো মন্তেল্লা। ভ্যাঙ্কুভারে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্তেল্লা অত্যন্ত সততার সাথে স্বীকার করেন, ‘সদ্যই ইনজুরি থেকে সেরে ওঠা এই দুই তারকা গত কয়েক মাসে ক্লাব ফুটবলে শারীরিক সমস্যার কারণে খুব কম ম্যাচ খেলেছেন। তারা মাঠে পুরো ৯০ মিনিট খেলার মতো অবস্থায় আছেন কি না বা কতক্ষণ স্থায়ী হতে পারবেন, তা আমি সত্যিই জানি না।’ তবে এই দুই তারকার ওপর দলের কৌশল এতটাই নির্ভরশীল যে, শতভাগ ফিট না হলেও তাঁদের ছাড়া একাদশ সাজানো মন্তেল্লার জন্য প্রায় অসম্ভব।
গ্রুপ ‘ডি’-এর সমীকরণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সাবেক এই ইতালিয়ান তারকা স্ট্রাইকার জানান, আয়োজক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই প্যারাগুয়েকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তা জানান দিয়েছে। তবে তাঁর মতে এই গ্রুপটি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ এবং এখানে থাকা চারটি দলেরই শেষ ১৬ বা নকআউট পর্বে যাওয়ার সমান যোগ্যতা রয়েছে। বিগত তিন বছর ধরে তুরস্কের কোচের দায়িত্বে থাকা মন্তেল্লা তুর্কি ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনার কথা স্মরণ করে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘২০০২ সালের পর এই প্রথম দেশবাসী বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলছে। এটি যেমন এক বিশাল রোমাঞ্চের, তেমনি এক বড় দায়িত্বের। আমি তুরস্ককে আমার দ্বিতীয় বাড়ি মনে করি এবং কোটি ভক্তের এই আবেগের প্রতি সম্মান জানিয়ে মাঠে আমাদের সেরাটা দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ এখন দেখার বিষয়, মন্তেল্লার এই ইনজুরি উদ্বেগ কাটিয়ে চালহানোগ্লু ও ইয়িলদিজরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সকারুজ প্রাচীর ভাঙতে কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেন।
মন্তব্য করুন