দীর্ঘ ২৮ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে ওয়ানস এগেইন বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফিরে নিজেদের প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখল স্কটল্যান্ড। বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-এর রোমাঞ্চকর ম্যাচে ক্যারিবীয় অঞ্চলের লড়াকু দল হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে ৩৬ বছর পর নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ জয় উদযাপিত করল ‘ট্যারটান আর্মি’। ম্যাচের একমাত্র ও জয়সূচক গোলটি করে কোচ স্টিভ ক্লার্কের আস্থার শতভাগ প্রতিদান দিয়েছেন অ্যাস্টন ভিলার ৩১ বছর বয়সী অভিজ্ঞ অধিনায়ক জন ম্যাকগিন। ম্যাচ শুরুর আগে রায়ান ক্রিস্টির পরিবর্তে ম্যাকগিনকে একাদশে সুযোগ দেওয়াকে নিজের ক্যারিয়ারের ‘সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন কোচ ক্লার্ক। ম্যাচ শেষে ম্যাকগিনের এই মহামূল্যবান গোল কোচের সেই সিদ্ধান্তকে যেমন সঠিক প্রমাণ করেছে, ঠিক তেমনি স্কটল্যান্ডকে গ্রুপ ‘সি’-এর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানে বসিয়ে নকআউট পর্বের দিকে এক বড় ধাপ এগিয়ে নিয়েছে।
গত প্রীতি ম্যাচে বলিভিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে স্কটিশ সমর্থকেরা বড় জয়ের আশা করলেও মাঠের লড়াইয়ে হাইতি তাদের গতি ও কাউন্টার-অ্যাটাক দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বেশ স্নায়ুচাপের মধ্যে রেখেছিল। ম্যাচ জুড়ে বল পজেশনে স্কটল্যান্ড কিছুটা দুর্বল থাকায় হাইতির একের পর এক আক্রমণ সামলাতে হাই-অ্যালার্টে থাকতে হয়েছিল ৪৩ বছর বয়সী ক্রেইগ গর্ডনের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানকে। ম্যাচের শেষভাগে ম্যাকগিন আরও একটি সহজ সুযোগ মিস করলে এবং হাইতির ফরোয়ার্ড ফ্র্যান্টজডি পিয়েরোতের একটি বিপজ্জনক হেডার পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে গেলে ম্যাচটিতে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে স্কটল্যান্ডের এই ফ্ল্যাট পারফরম্যান্সের রাতে ডান উইংয়ে আলোর ঝলকানি দেখিয়েছেন বোর্নমাউথের তরুণ উইঙ্গার বেন গ্যানন-ডোয়াক, যিনি পুরো ম্যাচেই হাইতির ডিফেন্ডারদের তটস্থ রেখেছিলেন। বিবিসি স্পোর্টসের পাঠকদের রেটিংয়ে ৮.৩৮ পেয়ে ম্যাচ সেরা হওয়া ম্যাকগিনের এই জয়ে মরক্কো ও ব্রাজিলের (যারা নিজেদের ম্যাচে ১-১ ড্র করেছে) ওপরে থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে স্কটল্যান্ড। আগামী ১৯ জুন মরক্কোর বিপক্ষে এই বোস্টনের মাঠেই নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে স্কটিশরা, যেখানে মাত্র ১টি পয়েন্ট পেলেই তাদের শেষ ৩২ বা নকআউট পর্বের টিকিট প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে।
মন্তব্য করুন