২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে রোববার (৫ জুলাই) নিউ জার্সির মাঠে মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও শক্তিশালী নরওয়ে। ম্যাচের আগে নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড ব্রাজিলকে ‘ফেভারিট’ আখ্যা দিয়ে নিজ দলের জয়ের সম্ভাবনা খুবই কম বলে মন্তব্য করেছেন। তবে হালান্ডের এই বক্তব্যকে স্রেফ ‘মনস্তাত্ত্বিক কৌশল’ হিসেবেই দেখছেন ব্রাজিলের মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারেস।
কেজ টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গিমারেস বলেন, “হালান্ড খুবই চালাক। সে কৌশলে সব চাপ আমাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে, যাতে নিজেদের ওপর চাপমুক্ত থাকা যায়। কিন্তু মাঠের লড়াই ১১ জনের বিপক্ষে ১১ জনের। নরওয়ের শারীরিক সক্ষমতা ও ক্রস থেকে গোল করার সক্ষমতা সম্পর্কে আমরা সতর্ক আছি।”
ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের অতীত পরিসংখ্যান বেশ ঈর্ষণীয়। দুই দলের চারটি মুখোমুখি লড়াইয়ে নরওয়ে দুটি জয় পেয়েছে এবং দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ব্রাজিল কখনো নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের মুখ দেখেনি। তবে গিমারেস এই পরিসংখ্যান নিয়ে মোটেও ভীত নন। তিনি বলেন, “এই নেতিবাচক রেকর্ড ভাঙাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমরা নিজেদের ইতিহাস নিজেরাই লিখতে চাই এবং ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় যোগ করতে চাই।”
বিশ্বকাপের এবারের আসরে ব্রুনো গিমারেস নিজেকে প্রমাণ করেছেন পরিশ্রমী এক মিডফিল্ডার হিসেবে। টুর্নামেন্টের অন্যতম পরিশ্রমী খেলোয়াড় হিসেবে তিনি এ পর্যন্ত ৪৪.৪ কিলোমিটার দৌড়েছেন। নিজের এই সক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে প্রতিটি ম্যাচে সর্বোচ্চটা দেওয়াই তার লক্ষ্য। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের স্বল্প সুযোগ ও অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার তিনি দলের জয়ে বড় অবদান রাখতে বদ্ধপরিকর।
ব্রাজিল ও নরওয়ের এই মহারণ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য একটি উত্তেজনাকর ম্যাচের নিশ্চয়তা দিচ্ছে। হালান্ডের নিখুঁত ফিনিশিং বনাম গিমারেসের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ—কে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়, তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় বিশ্ববাসী।
ব্রাজিল ও নরওয়ের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে আপনার ফেভারিট কে? ব্রুনো গিমারেসের আত্মবিশ্বাস কি ব্রাজিলকে ঐতিহাসিক জয় এনে দিতে পারবে? আপনার মতামত আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন।
মন্তব্য করুন