বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, প্রবীণ আইনজীবী এবং কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান মনে করেন, দলের জন্য দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবদান ও আত্মত্যাগ বিবেচনা করে তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখাকে একটি উপযুক্ত দায়িত্ব দেওয়া উচিত। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক জীবন ও পরিবারের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে ফজলুর রহমান তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম রেখাকে কেবল জীবনসঙ্গী নয়, বরং তার রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনের সবচেয়ে বড় সহযোগী হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “উনি আমার হেল্পিং হ্যান্ড বললে কম বলা হবে, আরও বেশি। সমস্ত কিছু মিলিয়েই আমরা।” স্ত্রীর রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে তিনি জানান যে, উম্মে কুলসুম রেখা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির পাশাপাশি আইন পেশার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সহসভাপতি, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অতীতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও বার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এবং প্রায় ২০ বছর আগে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বও পালন করেছেন।
স্ত্রীর রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রশংসা করে ফজলুর রহমান বলেন, তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে রাজনীতি করেন। কেবল নেতার স্ত্রী হিসেবে ঘরে বসে না থেকে তিনি সবসময় রাজপথে পাশে থেকেছেন। কঠিন সময়ে পুলিশের মুখোমুখি দাঁড়ানোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমি যখন জেলে গেছি, তখন সে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়েছে। সে চাইলে ঘরে বসে শুধু কান্নাকাটি করতে পারত। কিন্তু সে সেটা করেনি।”
তবে স্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট কোনো পদের দাবি করছেন না বলে স্পষ্ট করেন এই প্রবীণ নেতা। তিনি বলেন, “আমি বলছি না তাকে মন্ত্রী বানাও। তবে মানুষের জন্য কাজ করার মতো একটা দায়িত্ব তারও থাকা উচিত।” সাক্ষাৎকারে তিনি তাদের পারিবারিক জীবন নিয়েও কথা বলেন; তাদের এক ছেলে ব্যারিস্টার, এক ছেলে প্রকৌশলী, আরেক ছেলে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং একমাত্র মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আইনজীবী হিসেবে কর্মরত আছেন বলে জানান। সুবক্তা হিসেবে পরিচিত এই সংসদ সদস্যের এমন মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মন্তব্য করুন