ছবির ছোট্ট মেয়েটিকে দেখে হয়তো অনেকেই চিনতে পারবেন না। সময়ের সঙ্গে সেই শিশুটিই হয়ে উঠেছেন ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌনী রায়। টেলিভিশন দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করে পরে বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি।
১৯৮৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে জন্ম মৌনীর। দিল্লির মিরান্ডা হাউস থেকে ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করেন তিনি। অভিনয়ে আসার আগে গণযোগাযোগ নিয়েও পড়াশোনা শুরু করেছিলেন।
২০০৪ সালে ‘রান’ সিনেমায় ব্যাকগ্রাউন্ড নৃত্যশিল্পী হিসেবে কাজ করেন মৌনী। এরপর ২০০৬ সালে একতা কাপুরের ধারাবাহিক ‘কিউকি সাস ভি কভি বহু থি’-তে কৃষ্ণ তুলসী চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ছোটপর্দায় পরিচিতি পান।
পরে ‘দেবো কে দেব মহাদেব’ ধারাবাহিকে সতীর চরিত্রে অভিনয় করে আরও জনপ্রিয় হন। তবে তার ক্যারিয়ারের বড় সাফল্য আসে ‘নাগিন’ ধারাবাহিকে। ২০১৫ সালে এই সিরিজে অভিনয়ের পর দর্শকদের কাছে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। পরবর্তী সময়ে ‘নাগিন ২’-এও অভিনয় করেন।
টেলিভিশনে সাফল্যের পর ২০১৮ সালে অক্ষয় কুমারের বিপরীতে ‘গোল্ড’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় মৌনীর। এরপর ‘রোমিও আকবর ওয়াল্টার’, ‘মেড ইন চায়না’, ‘দাবাং ৩’সহ বিভিন্ন সিনেমা ও প্রকল্পে কাজ করেন তিনি।
২০২২ সালের ‘ব্রহ্মাস্ত্র: পার্ট ওয়ান-শিবা’-তে জুনুন চরিত্রে অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় আসেন মৌনী। রণবীর কাপুর ও আলিয়া ভাট অভিনীত সিনেমাটিতে তার খল চরিত্রটি দর্শকদের নজর কাড়ে।
২০২২ সালের ২৭ জানুয়ারি ব্যবসায়ী সুরজ নাম্বিয়ারকে বিয়ে করেন মৌনী। গোয়ায় অনুষ্ঠিত বিয়েতে বাঙালি ও মালয়ালি, দুই সংস্কৃতির রীতিই অনুসরণ করা হয়।
২০২৬ সালে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি ঘটে। মে মাসে যৌথ বিবৃতিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান তারা এবং বিষয়টি সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সামলানোর কথা বলেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রচারণা ও ব্যবসায়িক উদ্যোগের সঙ্গেও যুক্ত মৌনী। তার সম্পদ নিয়ে বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমে নানা হিসাব প্রকাশিত হলেও নির্দিষ্ট অঙ্কটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা কঠিন।
টেলিভিশনের কৃষ্ণ তুলসী থেকে জনপ্রিয় ‘নাগিন’, এরপর বলিউডের বড় পর্দা মৌনী রায়ের ক্যারিয়ার পেরিয়েছে নানা বাঁক। জন্মদিনে তাই আবারও আলোচনায় এসেছে তার দীর্ঘ অভিনয়যাত্রা।
মন্তব্য করুন