দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের রূপরেখা নির্ধারণের লক্ষ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম এবং বহুল প্রত্যাশিত বাজেট অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রোববার বিকাল ৩টায় নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের দূরদর্শী সভাপতিত্বে এই ঐতিহাসিক সংসদ অধিবেশনের সূচনা ঘটে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির বহুল আলোচিত ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের প্রথম বাজেট অধিবেশন। নতুন সরকারের এই প্রথম বাজেটকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল ও গভীর আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় বাজেট দেশের এই সর্বোচ্চ আইনসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে তাঁর প্রথম বাজেট পেশ, যেখানে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংস্কার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিশেষ অগ্রাধিকার পেতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত তাঁর বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে গত ৭ মে এই বাজেট অধিবেশন আহ্বান করেছিলেন।
আইনি ধারাবাহিকতা অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ঐতিহাসিক ও প্রারম্ভিক অধিবেশনটি গত ৩০ এপ্রিল সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছিল। অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও রেকর্ড সৃষ্টিকারী ওই প্রথম অধিবেশনে মাত্র ২৫টি কার্যদিবসের মধ্যে দেশের বিভিন্ন খাতের সংস্কারমূলক মোট ৯৪টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছিল, যা দেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রথম অধিবেশনের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এই বাজেট অধিবেশনেও বেশ কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ আইন ও সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আইনসভায় বিস্তারিত ও গঠনমূলক আলোচনা হবে বলে স্পিকারের কার্যালয় থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এই নতুন সরকারের সামনে এবারের বাজেট অধিবেশনটি একটি বড় ধরনের অ্যাসিড টেস্ট হিসেবে দেখা দিচ্ছে। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, অর্থমন্ত্রী কর্তৃক বাজেট উপস্থাপনের পর তার ওপর সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের দীর্ঘ আলোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হবে। দেশের প্রান্তিক জনপদের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা এবং নতুন কর কাঠামোর সুষম বণ্টন নিশ্চিত করাই এই বাজেট অধিবেশনের মূল লক্ষ্য হতে যাচ্ছে। চলতি জুন মাস জুড়েই এই ঐতিহাসিক বাজেট অধিবেশন চলবে এবং সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নতুন অর্থবছরের বাজেট চূড়ান্তভাবে পাস হবে বলে সংসদীয় সূচী সূত্রে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন