নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্যোগে আয়োজিত একটি ফল উৎসবে দুই দফা হামলা ও প্যান্ডেল ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার কারণে শেষ পর্যন্ত উৎসবটি করা সম্ভব হয়নি বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পারসোনাল আইডি থেকে দেওয়া এক আবেগঘন ও প্রতিবাদী পোস্টে তিনি রূপগঞ্জের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে দুষ্কৃতিকারীরা তাদের এই অরাজনৈতিক ও উৎসবমুখর সামাজিক কর্মসূচিটি পণ্ড করে দিয়েছে, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কোনোভাবেই কাম্য নয়।
ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উল্লেখ করেন যে, শনিবার রূপগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে ফল উৎসবটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। কিন্তু এর আগের দিন অর্থাৎ শুক্রবার গভীর রাতে একদল অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতকারী উৎসবের মূল প্যান্ডেলটি সম্পূর্ণ ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। এই ঘটনার পরও এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা দমে না গিয়ে শনিবার সকালে পুনরায় নতুন করে স্টেজ ও প্যান্ডেল নির্মাণ শুরু করেন। তবে অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, দ্বিতীয়বার কাজ শেষ করার পরপরই একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে আবারও অনুষ্ঠানস্থলে হামলা চালায় এবং স্টেজ ও প্যান্ডেল ভেঙে ফেলার পাশাপাশি প্রচারণার জন্য আনা মাইকসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
সন্ত্রাসীদের এই অতর্কিত ও সহিংস হামলার সময় অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ও সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলায় কয়েকজনের মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হওয়ার খবরও নিশ্চিত করেছেন দলটির এই শীর্ষ নেতা। রূপগঞ্জের মতন একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে প্রকাশ্য দিবালোকে এই ধরনের পৈশাচিক হামলার ঘটনায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র উত্তেজনা ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে এনসিপির এই মুখ্য সমন্বয়ক সরাসরি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং ঘটনার একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচারের জোর দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে দেশের প্রধান অন্যতম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি অনুরোধ করেন, মাঠপর্যায়ে যেন তারা এই ধরনের রাজনৈতিক দুষ্কৃতকারী ও উগ্রপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করেন। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের চলে আসা এই সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতার নোংরা সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে বিএনপির মতন একটি বড় দলকে দায়িত্বশীলতার সাথে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি। এনসিপি মনে করে, সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হলে সব দলের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
মন্তব্য করুন