পারস্য উপসাগরে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানের সাতটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে শনাক্ত ও প্রতিরোধ করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি আন্তর্জাতিক মহলে নিশ্চিত করা হয়েছে। শনিবার প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে, ইরানের ছোঁড়া এই বিপজ্জনক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কুয়েতের বিভিন্ন বেসামরিক ও আবাসিক এলাকার আকাশে থাকা অবস্থায় মাঝআকাশেই নিখুঁতভাবে ভূপাতিত করা হয়। তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করার পর সেগুলোর জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ দেশটির কয়েকটি স্থানে গিয়ে আছড়ে পড়ে, যার ফলে কিছু কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে যে, মাঝআকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার এই বিশাল ও আকস্মিক অভিযানের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো সাধারণ নাগরিক বা বাসিন্দার হতাহত হওয়ার বা কোনো ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে হঠাৎ করে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকার ওপর দিয়ে এই যুদ্ধাবস্থা তৈরি হওয়া এবং ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের বিকট শব্দে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেকোনো ধরনের বহিরাগত হামলা ও আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের সীমানা রক্ষায় তারা সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এদিকে, প্রতিবেশী রাষ্ট্র কুয়েত ও বাহরাইনের ওপর ইরানের এই ধারাবাহিক ও একতরফা সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আরেক উপসাগরীয় দেশ কাতার। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক কড়া বিবৃতিতে তেহরানের এই বেপরোয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাকে দুই উপসাগরীয় ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট ও নগ্ন লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে দোহা। একই সাথে কাতার একে আন্তর্জাতিক আইনের প্রকাশ্য অবমাননা এবং আঞ্চলিক শান্তি বিনষ্টের এক বিপজ্জনক প্রয়াস বলে উল্লেখ করেছে। দোহা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় তারা কুয়েত ও বাহরাইনের পাশে রয়েছে এবং তেহরানকে অবিলম্বে এই উসকানিমূলক আচরণ বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছে।
মূলত হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যকার চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের রেশ ধরেই এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটে উপসাগরীয় দেশগুলোকে জড়িয়ে ইরানের এই সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে এক অভূতপূর্ব ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এই বড় ধরনের সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ার গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশ্বশক্তিগুলো এই চরম উত্তেজনা প্রশমনে এবং একটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জরুরি কূটনৈতিক মধ্যস্থতা শুরু করার তাগিদ দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন