রাজধানীর কাফরুলে যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী ওরফে পারভেজ হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতের এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোববার পর্যন্ত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে মোট আটজনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া পাঁচজন শুটারের মধ্যে চারজনকেই আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মূলত ৫ লাখ টাকা চুক্তিতে কিলারদের ভাড়া করা হলেও আগাম মাত্র ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল।
পুলিশ ও ডিবি সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের দিন রাতে স্থানীয় জনতা পিস্তলসহ শুটার চঞ্চল মোল্লাকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে ডিবি পুলিশের মিরপুর বিভাগ ও থানা পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে শুটার জিয়ারুল হক মোল্লা ওরফে রাজু, নাহিদ হাসান, সহযোগী সাফিন ছৈয়াল ও আলী হোসেনসহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হাফিজুর রহমান বাবুকে লক্ষ্য করে এই কিলিং মিশন পরিচালিত হয়েছিল। কিলাররা অপরিচিত হওয়ায় এবং চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যাওয়ার একপর্যায়ে তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। এ সময় ইউসুফ আলী এগিয়ে এলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং পালানোর সময় চঞ্চলের বন্দুক লক হয়ে যাওয়ায় সে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক কোনো সংঘাতের চেয়ে স্থানীয় দখল ও আধিপত্য বিস্তারের বিষয়গুলো বেশি কাজ করেছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ। ডিবির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোঁ. রাঁকিব খান জানান, ঘটনাটির সঙ্গে যারা জড়িত থাকুক না কেন, সবাইকে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। কিলারদের ভাড়া করার জন্য ব্যবহৃত হোটেল রুমের ভুয়া এনআইডি এবং অর্থ লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে ডিএমপির পক্ষ থেকে বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনে আরও প্রকাশ করা হবে।
মন্তব্য করুন