বর্তমান বিশ্বের জটিল সংকট নিরসনে একক কোনো আদর্শ বা চিন্তার আধিপত্য কোনো স্থায়ী সমাধান বয়ে আনতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, জগতের যাবতীয় বৈচিত্র্য, ভিন্নমত ও আদর্শের অবাধ আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই কেবল শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব। আর এই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন মুক্ত ও দায়িত্বশীল বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা। শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ‘আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যখন বিভ্রান্তি ও বিভাজন দ্রুত বাড়ছে, তখন জ্ঞান, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বিশ্বাসযোগ্য বুদ্ধিবৃত্তিক উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। তিনি আল-উম্মাহ জার্নালের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলা, ইংরেজি, আরবি ও তুর্কি এই চারটি ভাষায় জার্নালটি প্রকাশের উদ্যোগটি পারস্পরিক সংস্কৃতির গভীর বোঝাপড়া তৈরিতে এবং ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকারের নীতি সম্পর্কে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সব ধরনের বৈচিত্র্য এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। যে যার অবস্থান থেকে নিজের মতাদর্শ প্রকাশ করবে এবং সুস্থ আলোচনার মাধ্যমে তার আদান-প্রদান হবে এটিই আমাদের প্রকৃত গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি। তিনি আরও যোগ করেন, কোনো সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা জাতি এককভাবে বিশ্বকে শাসন বা আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না, বরং সব মতাদর্শের গবেষকদের সমন্বয়ে এমন সমাধান খুঁজতে হবে যা সভ্যতার কল্যাণ বয়ে আনবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্বখ্যাত তুর্কি লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ইয়াসিন আকতাই। তিনি মুসলিম বিশ্বের সমৃদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যকে সমসাময়িক বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সংযোগ ঘটানোর আহ্বান জানান। আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাকির হোসেনের স্বাগত বক্তব্যে সূচিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. এ এফ এম খালিদ হোসেন।
ড. খালিদ হোসেন বলেন, এই প্ল্যাটফর্মটি ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত সংযোগ গড়ে তুলতে এবং মুসলিম উম্মাহর সমসাময়িক চ্যালেঞ্জগুলোর বুদ্ধিবৃত্তিক সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানের শেষাংশে দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট গবেষক ও শিক্ষাবিদদের অংশগ্রহণে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে গণমাধ্যম, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মন্তব্য করুন