বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর বহুমুখী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চীনের তৈরি চতুর্থ প্রজন্মের উন্নত জে-১০সিই (J-10CE) ফাইটার বিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা ও দর-কষাকষি বেশ ভালোভাবে এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সম্প্রতি সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমান সরকারের প্রতিরক্ষা নীতি ও বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের ধারাবাহিক পরিকল্পনার আওতায় শুধু ফাইটার এয়ারক্রাফটই নয়, বরং মাল্টি রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ), আধুনিক অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি পরিবহন হেলিকপ্টার এবং অত্যাধুনিক ইউএভি (UAV) সিস্টেম সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের ওপর ভিত্তি করে চলতি অর্থবছর কিংবা আগামী অর্থবছরের মধ্যে এই সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রক্রিয়াগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে। ইতিমধ্যে এমআরসিএ, জে-১০সিই এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরির অ্যাটাক হেলিকপ্টার সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গঠিত সংশ্লিষ্ট মূল্যায়ন কমিটির মাধ্যমে নেগোসিয়েশন মিটিং ও খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
চীন উৎপাদিত জে-১০ ফাইটার বিমানের কার্যকারিতা ও কৌশলগত সুবিধার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতির বাস্তব অভিজ্ঞতায় এই ফাইটার বিমানের পারফরম্যান্স যথেষ্ট প্রশংসিত হয়েছে। ইউরোপীয় বা পশ্চিমা দেশের তৈরি রাফাল (Rafale) কিংবা ইউরোফাইটার টাইফুনের (Eurofighter Typhoon) মতো ব্যয়বহুল যুদ্ধবিমানের তুলনায় একই রকমের সামরিক সক্ষমতাসম্পন্ন চীনা ফাইটার জেটগুলোর আর্থিক মূল্য তুলনামূলকভাবে অনেকটাই সাশ্রয়ী। ফলে জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে বাজেটের খরচ এবং কার্যকারিতা উভয় দিককেই সমান গুরুত্ব দিয়ে এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
স্বাধীন ও সার্বভৌম পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতি অনুসরণের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন যে বর্তমান বাংলাদেশ তার নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে বিবেচনা করে যেকোনো বৈদেশিক ও সামরিক কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সম্পূর্ণ সক্ষম। অতীতে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এ ধরনের স্বাধীন প্রতিরক্ষা ক্রয় সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না উল্লেখ করে তিনি জানান যে জাতীয় স্বার্থের এই রূপান্তরই মূলত দেশের বর্তমান ভূরাজনৈতিক অবস্থার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
মন্তব্য করুন