নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইন অনুযায়ী সম্পদ বিবরণী দাখিল না করার অপরাধে সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শামসুল হক টুকুর ছেলে এবং পাবনার বেড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র এস এম আসিফ শামসের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সহকারী পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজির আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ক্ষমতা অপব্যবহার করে অবৈধ ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সেই অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই তাঁর ছেলে এস এম আসিফ শামসের সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল দুদক। নিয়ম অনুযায়ী কনস্টেবলের মাধ্যমে আসিফ শামসের স্থায়ী ঠিকানায় সম্পদ বিবরণী ফরম পাঠানো হয় এবং গত ১৬ জানুয়ারি তা জারি করা হয়। আইন অনুসারে ফরম পাওয়ার পর ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদের হিসাব দাখিল করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও নির্ধারিত সেই সময়সীমা অর্থাৎ গত ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তিনি কোনো বিবরণী জমা দেননি। এমনকি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সময় বৃদ্ধির জন্যও কোনো ধরনের আবেদন করেননি তিনি।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদের হিসাব জমা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারার বিধান অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে নন-সাবমিশন মামলা দায়েরের এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মো. শামসুল হক টুকুর বিরুদ্ধেও দুদকের পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। পাশাপাশি আসিফ শামসের অপর ভাই এস এম নাসিফ শামস ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি বর্তমানে দুদকের নিবিড় অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।
মন্তব্য করুন