জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি কেনাবেচা কিংবা বিবাহ-শাদির মতো বিভিন্ন চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী বা ব্রোকার (মিডিয়া) হিসেবে কাজ করা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক বা কমিশন নিয়ে থাকে। সাধারণ মানুষের মনে প্রায়ই এই প্রশ্ন জাগে যে, এই পারিশ্রমিক কি বিক্রেতা দেবেন, নাকি ক্রেতা দেবেন? ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে মধ্যস্থতাকারীর এই পারিশ্রমিক বা ব্রোকারেজ ফি নেওয়ার সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে।
জামিয়া ইমাম বুখারীর মুফতি ও মুহাদ্দিস সাইদুজ্জামান কাসেমির ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারী বা দালাল শর্ত সাপেক্ষে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকেই কিংবা যেকোনো একজনের কাছ থেকে পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারবেন। তবে যার কাছ থেকেই পারিশ্রমিক নেওয়া হোক না কেন, অপর পক্ষের তা জানা থাকতে হবে এবং লেনদেনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। এই পারিশ্রমিক নেওয়ার ক্ষেত্রে মূল শর্ত হলো এর মাধ্যমে কোনো প্রকার ধোঁকা, প্রতারণা কিংবা মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া যাবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "যে ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়" (সহিহ মুসলিম)।
ইসলামী ফিকহ ও ফতোয়ার কিতাব যেমন 'রদ্দুল মুহতার' ও 'ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমা'-র নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্রেতা, বিক্রেতা এবং মধ্যস্থতাকারীর মধ্যে পারস্পরিক सहमति বা চুক্তির ভিত্তিতে পারিশ্রমিকের পরিমাণ নির্ধারিত হতে পারে। এটি ক্রেতা একা দিতে পারেন, বিক্রেতাও দিতে পারেন অথবা উভয় পক্ষ মিলে ভাগ করেও দিতে পারেন। তবে ফতোয়া অনুযায়ী, এই পারিশ্রমিক বা সায়ী যৌক্তিক সীমার মধ্যে হওয়াই বাঞ্ছনীয়, যা প্রচলিত প্রথার বাইরে গিয়ে কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। মধ্যস্থতাকারী তার শ্রম ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে যে সেতুবন্ধন তৈরি করেন, তার বিপরীতে এই পারিশ্রমিক শরিয়তে জায়েজ ঘোষণা করা হয়েছে, যদি তা পারস্পরিক সন্তুষ্টি ও সততার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।
মন্তব্য করুন