উত্তরপ্রদেশের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যটির রাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণের জল্পনা শুরু হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির (এসপি) নেতা অখিলেশ যাদবের সঙ্গে জোটের প্রস্তাব নিয়ে কোনো স্পষ্ট সাড়া না মেলায়, এবার বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) নেত্রী মায়াবতীর সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি।
যদিও মায়াবতী ও ওয়েইসির মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো জোট চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণা এখনও আসেনি এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মায়াবতী ঘোষণা দিয়েছিলেন যে বিএসপি এককভাবেই নির্বাচনে লড়বে। তবে গত কয়েক মাস ধরে বিজেসিকে ঠেকাতে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে জোটে যাওয়ার আগ্রহ বারবার প্রকাশ করে আসছেন ওয়েইসি। বিশেষ করে সমাজবাদী পার্টির উদ্দেশে তিনি সম্প্রতি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, এআইএমআইএম ভোটে লড়লে এসপির ক্ষতি হয় বলে যারা মনে করেন, সেই ক্ষতি এড়াতেই তাদের একসঙ্গে লড়াই করা উচিত। কিন্তু এসপির পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় এবার বিএসপির দিকে নজর দিয়েছেন এই হায়দরাবাদের সাংসদ। উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে দলিত ও মুসলিম ভোট অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করায় বিএসপি ও এআইএমআইএম কোনোভাবে সমঝোতায় পৌঁছালে তা নির্বাচনি সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ইতিমধ্যে এআইএমআইএম উত্তরপ্রদেশে তাদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে এবং জুনেই প্রায় দুই শতাধিক আসনে লড়াই করার পাশাপাশি জোটের দরজা খোলা রাখার ঘোষণা দিয়েছিল। অন্যদিকে, কঠিন রাজনৈতিক পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাওয়া বিএসপি সম্প্রতি মায়াবতীর ভাইয়ের ছেলে আকাশ আনন্দকে দলের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে, যা তাদের রাজনৈতিক কৌশলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়েইসি শেষ পর্যন্ত মায়াবতীর সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলে তা উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেসের সমীকরণের বাইরে সম্পূর্ণ নতুন একটি রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। তবে এই সম্ভাব্য জোট বাস্তবে কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে আসন ভাগাভাগি, ভোটারদের মনস্তত্ত্ব এবং মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক শক্তির ওপর।
মন্তব্য করুন