চলতি ইরানি বছর শেষ হওয়ার আগেই (২১ মার্চ ২০২৭) ‘শহিদ সোলেইমানি স্যাটেলাইট নক্ষত্রমণ্ডল’-এর তিনটি স্যাটেলাইট একসঙ্গে মহাকাশে কক্ষপথে পাঠানোর উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইরান। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দেশটির যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সাত্তার হাশেমি গণমাধ্যমের সামনে এই তথ্য জানিয়েছেন।
মন্ত্রী সাত্তার হাশেমি জানান, মহাকাশশিল্পের সার্বিক উন্নয়ন বর্তমান ইরান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় একই সঙ্গে তিনটি দেশীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকে তাদের মহাকাশ খাতের ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। ‘পায়া’, ‘জাফর’ ও ‘কাওসার’ নামের এই তিনটি স্যাটেলাইট যৌথভাবে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি খাতের উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শহিদ সোলেইমানি স্যাটেলাইট নক্ষত্রমণ্ডলে মোট ২৪টি স্যাটেলাইট রাখার লক্ষ্য রয়েছে, যার মধ্যে ১৮টি মূল এবং ৬টি রিজার্ভ স্যাটেলাইট হিসেবে কাজ করবে। বাকি স্যাটেলাইটগুলো পরবর্তী বছরগুলোতে পর্যায়ক্রমে মহাকাশে পাঠানো হবে।
ইরানের মহাকাশ অবকাঠামো সম্প্রসারণে বেশ কিছু নতুন প্রকল্পও এগিয়ে চলছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার স্পেস সেন্টারের প্রথম ধাপের নির্মাণকাজ প্রায় ৯৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, যা পরবর্তীতে যোগাযোগ ও রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়া টেলিযোগাযোগের কাজে ব্যবহারের জন্য প্রথমবারের মতো ‘কু-ব্যান্ড’ প্রযুক্তিতে তৈরি ‘নাহিদ-২’ স্যাটেলাইটও কক্ষপথে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দেশটির মহাকাশ খাতের এই অগ্রগতি আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন