বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির কবলে পড়া বা ভিজে কর্মস্থলে যাওয়া এখন অনেকের জন্যই নিত্যদিনের ঘটনা। বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফেরার পর অনেকেরই জ্বর বা সর্দি অনুভূত হয়, যার ফলে মনে প্রশ্ন জাগে বৃষ্টিতে ভিজলেই কি সর্দি-জ্বর হয়? চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, বৃষ্টির পানি সরাসরি সর্দি-জ্বরের কারণ নয়। মূলত রাইনোভাইরাস নামক জীবাণুর কারণেই আমরা সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হই। বৃষ্টিতে ভিজে যখন শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়, তখন আমাদের নাক ও গলার ভেতরের অংশ ঠান্ডা হয়ে যায়। এই শীতল পরিবেশ ভাইরাস সংক্রমণের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে, আর সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা দেয় হাঁচি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা জ্বরের মতো উপসর্গ।
বৃষ্টি থেকে পুরোপুরি নিজেকে দূরে রাখা অনেক সময় সম্ভব হয় না, তবে কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। বাইরে বের হওয়ার সময় ছাতা বা রেইনকোট ব্যবহার করা জরুরি। বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ ভেজা কাপড় পরে থাকা একদমই উচিত নয়। যত দ্রুত সম্ভব ভেজা কাপড় বদলে ফেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করে নিন এবং শরীর পুরোপুরি শুকিয়ে ফেলুন। এছাড়া শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট রাখতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
বর্ষায় সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হলো ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা। বাইরে থেকে ফিরে বা কিছু খাওয়ার আগে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রচুর পানি পান আপনার শরীরকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ার শক্তি জোগাবে। যদি সামান্য সর্দি থাকে, তবে হালকা শারীরিক চর্চা করা যেতে পারে, কিন্তু জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়াই সবচেয়ে ভালো। বৃষ্টির দিনে অযথা ঠান্ডা ও আর্দ্র পরিবেশে বেশিক্ষণ না থেকে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়াই সুস্থ থাকার প্রধান উপায়। মনে রাখবেন, বৃষ্টিতে ভেজা সরাসরি রোগ নয়, বরং অসাবধানতা ও ভাইরাস সংক্রমণই আপনার অসুস্থতার আসল কারণ।
মন্তব্য করুন