২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বেলজিয়াম এবং সেনেগালের মধ্যকার শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটি ফুটবল প্রেমীদের দীর্ঘকাল মনে থাকবে। সিয়াটলের মাঠে সেনেগাল ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে যখন জয়ের খুব কাছাকাছি ছিল, ঠিক তখনই যেন এক অবিশ্বাস্য রূপকথার জন্ম দেয় বেলজিয়াম। ম্যাচের শেষ দিকে রোমেলু লুকাকু এবং ইউরি টিলেমানসের দুই গোলে সমতা ফিরিয়ে বেলজিয়াম খেলা নিয়ে যায় অতিরিক্ত সময়ে। তবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী সেই মুহূর্তটি আসে ১২৫ মিনিটে, যখন ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্যে বেলজিয়ামকে একটি পেনাল্টি উপহার দেন রেফারি সাইদ মার্তিনেজ। টিলেমানসের সফল স্পট কিক বেলজিয়ামকে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় এনে দিলেও ম্যাচ পরবর্তী সময়ে এই পেনাল্টির সিদ্ধান্তটি ফুটবল বিশ্বে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
সেনেগালের খেলোয়াড় এবং কোচ পাপে থিয়াও এই পেনাল্টিকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি। ম্যাচ শেষে সেনেগালের কোচ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই সিদ্ধান্তটি তাদের বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পথ প্রশস্ত করেছে এবং তিনি এটিকে চরম অন্যায় বলে মনে করছেন। শুধু তাই নয়, সুইডেনের কিংবদন্তি ফুটবলার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ তো সরাসরি একে সেনেগালের জয় ছিনতাই বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, আধুনিক ফুটবলে ডি-বক্সের ভেতরে সামান্য স্পর্শকে কেন্দ্র করে ভিডিও রিপ্লে দেখে পেনাল্টি দেওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা ফুটবলের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করছে। গ্যারি নেভিলের মতো সাবেক ফুটবলাররাও রেফারির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং অনেকেই মনে করছেন রেফারি দীর্ঘ সময় ধরে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন, যা ম্যাচের উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য স্পোর্টিং নিউজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ঘটনার গভীরে গেলে দেখা যায় যে ল্যামিন কামারার স্লাইডিং চ্যালেঞ্জটি বেলজিয়ামের মিডফিল্ডার ইউরি টিলেমানসের পায়ে সরাসরি লেগেছিল। নিয়মের মারপ্যাঁচে বক্সের ভেতরে এমন অসতর্ক ট্যাকল ফাউল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ভিএআর প্রযুক্তি মাঠে থাকা রেফারিকে সেই ফাউলটিই পুনরায় দেখানোর পরামর্শ দিয়েছিল। তবে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সেই অতি সূক্ষ্ম স্পর্শ এবং পেনাল্টির দীর্ঘস্থায়ী প্রক্রিয়া। শেষ পর্যন্ত বেলজিয়ামের এই জয় তাদের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করলেও সেনেগালের জন্য এই পরাজয় অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও অমর্যাদাকর হিসেবেই ইতিহাসে থেকে যাবে।
মন্তব্য করুন