মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা এবার এক চরম ও বিপজ্জনক রূপ নিয়েছে। দক্ষিণ ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের জবাবে একটি অত্যাধুনিক মার্কিন এমকিউ-৯ (MQ-9) ড্রোন ভূপাতিত করার পাশাপাশি বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে শক্তিশালী ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। বুধবার (১০ জুন) ভোরে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর প্রদেশের আকাশসীমায় মার্কিন ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয় বলে আইআরজিসির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, সম্প্রতি দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক এবং কিশমি দ্বীপে চালানো মার্কিন বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে বাহরাইনভিত্তিক মার্কিন নৌবহরকে লক্ষ্য করে এই ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি আরও স্পষ্ট করে যে, সিরিক শহরের বামানি জেলায় মার্কিন হামলায় একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত এবং দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হওয়ার পর তারা এই তাৎক্ষণিক পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। স্থানীয় সময় রাত আড়াইটায় তাদের নৌবাহিনী মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে এই ড্রোন অভিযান শুরু করে। বর্তমানেও দুপক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ সংঘাত চলছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়েছে যে, মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকলে এর চেয়েও ‘আরও ভয়াবহ জবাব’ দেওয়া হবে।
এই নজিরবিহীন ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বিরুদ্ধে তাদের তথাকথিত ‘আত্মরক্ষামূলক’ বিমান হামলা সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছিল। সেন্টকমের দাবি, এর আগে ইরানের সামরিক বাহিনী কর্তৃক একটি মার্কিন আর্মি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার সাইটগুলোতে এই বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছিল। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন এক বড় ধরণের যুদ্ধের মেঘ জমছে।
মন্তব্য করুন