আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বরিশালের অবিসংবাদিত ও সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা ছিলেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। নগরীর কালীবাড়ি রোডের তার প্রাসাদসম ‘সেরনিয়াবাত ভবন’ থেকে একসময় নিয়ন্ত্রিত হতো পুরো দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার আওয়ামী রাজনীতি। সেসময়ে দলটির সাধারণ নেতাকর্মী থেকে শুরু করে বড় পদপ্রত্যাশীদের এই ভবনের বাসিন্দাদের সাক্ষাৎ পেতে সপ্তাহ বা মাসজুড়ে অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দুই বছরের ব্যবধানে সেই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন সন্ধ্যাবাতি জ্বালানোর মতোও কেউ নেই।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণরোষের মুখে পড়ে এই ঐতিহাসিক বাড়িটি। সেদিন হামলার পর ভবনটিতে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং পরবর্তীতে এক্সকেভেটর দিয়ে এটি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই থেকে কালীবাড়ি রোডের এই বাড়িটি ভাঙা ও বিধ্বস্ত অবস্থায় পরিত্যক্ত পড়ে আছে। অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে থাকা ভবনটির দেওয়ালজুড়ে জন্মেছে আগাছা এবং চারপাশ ছেয়ে গেছে শ্যাওলায়। একসময়ের প্রতাপশালী রাজনৈতিক প্রাসাদটি এখন বখাটে ও ভবঘুরের পাশাপাশি শিয়াল-কুকুরের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভবনটির বর্তমান অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে এটি এখন কুকুরদের স্থায়ী নিবাসে রূপ নিয়েছে এবং রাতের বেলায় সেখানে শেয়ালেরও আনাগোনা দেখা যায়। বরিশাল নগরে সেসময়ে আমীর হোসেন আমু, জাহাঙ্গীর কবির নানক কিংবা জাহিদ ফারুক শামিমের মতো কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের বাড়ি থাকলেও সেরনিয়াবাত ভবনের মতো এমন নজিরবিহীন ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ কোথাও হয়নি। অন্যান্য নেতাদের বাড়ি দেখাশোনার জন্য লোকজন বা পাহারাদার থাকলেও হাসানাতের এই বিধ্বস্ত ভবনের আগাছা পরিষ্কার করার বা খোঁজ নেওয়ার মতোও কেউ নেই।
মন্তব্য করুন