|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Aug 19, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ইমরান খানের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় পাকিস্তান সরকারের আইনি আপত্তি

ইমরান খানের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিলেও সেই আদেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পরদিন অর্থাৎ বুধবার ইসলামাবাদ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে একটি রিভিউ পিটিশন বা পুনর্বিবেচনার আবেদন দাখিল করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার পাকিস্তানের শীর্ষ আদালত কারাবন্দি পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে কারাগার থেকে রাওয়ালপিন্ডি বা ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিল। এমনকি আদালতের সেই রায়ে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. ফয়সাল সুলতানকেও মেডিকেল বোর্ডে রাখার কথা বলা হয়েছিল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, কোনো বন্দিকে কারাগারের বাইরে বিশেষ কোনো হাসপাতালে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে পাকিস্তান প্রিজন রুলস, ১৯৭৮ এর যে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের আদেশে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

পাকিস্তান সরকারের মূল আপত্তির জায়গাটি হলো প্রিজন ম্যানুয়াল এবং আইনি এখতিয়ার। সরকারের আইনি দলের মতে, আদালত এই নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে তার এখতিয়ার অতিক্রম করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগজনক কিছু ঘটেনি এবং কারাগারের ভেতরেই নিয়মিত মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে তার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা চলছে। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে আরও একটি বড় আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে যে, ইমরান খানকে এই ধরনের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলে ভবিষ্যতে অন্য বন্দিরাও একই দাবিতে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন, যা জেলখানার প্রচলিত নিয়মের পরিপন্থী। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে সরকার কখনোই ইমরান খানের মৌলিক চিকিৎসার বিরোধী নয়, বরং তারা চান তিনি আইন ও জেল ম্যানুয়াল মেনেই সঠিক চিকিৎসাসেবা পান। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের পক্ষেই সরকারের আইনি আপত্তি রয়েছে এবং তারা আদালতের কাছে তাদের এই অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের মূল আদেশে শুধু চিকিৎসাসংক্রান্ত নির্দেশনা ছিল না, বরং এর পাশাপাশি ইমরান খানের সম্পূর্ণ মেডিকেল রেকর্ড আদালতে উপস্থাপনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া কারাবন্দি এই নেতার মানবাধিকারের কথা চিন্তা করে তার পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত সাপ্তাহিক সাক্ষাৎ এবং বিদেশে থাকা তার দুই ছেলের সঙ্গে সপ্তাহে দুইবার ফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আদালতের পক্ষ থেকে এটিও কঠোরভাবে বলে দেওয়া হয়েছিল যে, ইমরান খানের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো তথ্য বা মেডিকেল রিপোর্ট যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা অপপ্রচারের জন্য প্রকাশ করা না হয়। সরকারের পক্ষ থেকে দাখিল করা রিভিউ আবেদনে গত ১৮ আগস্টের সেই সুপ্রিম কোর্টের আদেশ পুরোপুরি প্রত্যাহার বা পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই হাই-প্রোফাইল আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী শুনানি আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে, যেখানে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই এখন সকলের নজর রয়েছে

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না এমপিওভুক্ত শিক্ষ

1

আত্মহননের আগে চিরকুটে কী লিখেছিলেন তৃণমূল নেতা আশিস বন্দ্যোপ

2

টানা দুই দফায় সোনার দাম বাড়ল ৬,৫৯০ টাকা: নতুন দাম ও বিস্তার

3

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষিণ কোরিয়ার ১ ট্

4

ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধের জেরে পদত্যাগ করেছেন লেভিট, দাবি ইরান

5

চোরাচালান রোধ ও যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল করতে বিজিবির ব্যতিক্

6

আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল: বর্তমান র‍্যাঙ্কিং, স্কোয়াড ও ২

7

এআই কবজায় নিতে বললেন ইসরাইলি গবেষক মায়া অ্যাকারম্যান

8

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: সর্বশেষ ফুটবল আপডেট ও ম্যাচের বিশ্লেষণ

9

মাদারীপুরের ডাসারে কেমিক্যাল ড্রাম বিস্ফোরণে শিশু শ্রমিকের ম

10

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক বিতর্ক: বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান

11

চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ভ

12

অনলাইন সাংবাদিকতাই এখন মানুষের প্রধান ভরসা: সেতুমন্ত্রী শেখ

13

সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম বাড়াতে সরকারের ওপর ব্যবসায়ীদের চ

14

জার্মানির ‘আসল পরীক্ষা’ আজ

15

রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড়কাটা বন্ধের ঘোষণা দিলেন হুমাম কাদের চৌধুরী

16

নিখোঁজের দুই দিন পর স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

17

পুনের মোশি ডাম্পিং ইয়ার্ডে ময়লার স্তূপ ধসে ৮ জনের মৃত্যু

18

ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ৫

19

বিএনপি জনরায় উপেক্ষা করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে: জামায়াত সেক

20