পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের নাম, স্বাক্ষর ও সিল জাল করে অবৈধ তদবির বাণিজ্যের অভিযোগে মোংলায় গ্রেফতার হওয়া মো. কামরুজ্জামান টুকু ওরফে টুকু শেখের (৩৫) অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা তথ্য সামনে এসেছে। রাজনৈতিক আদর্শ ও পরিচয়ের চেয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড টিকিয়ে রাখাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। আর এজন্যই সুযোগ বুঝে সে একেক সময় একেক রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে নিজের বলয় তৈরি করত বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ধূর্ত প্রকৃতির এই টুকু শেখ দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক খোলস পালটে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। অতীতে সে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও সময়ের পরিবর্তনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের সঙ্গে সঙ্গে নিজের পরিচয়ও বদলে ফেলত। আওয়ামী লীগের পর সে একে একে জামায়াত এবং পরবর্তীতে এনসিপির দলীয় পরিচয় ব্যবহার করতে শুরু করে। আর সর্বশেষ তাকে শ্রমিক দলের পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে দেখা যায়। এই রাজনৈতিক পরিচয়গুলোর আড়ালে সে মূলত একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র গড়ে তোলে, যারা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ তদবির ও নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিল।
গত রোববার (২ আগস্ট) পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের সিল ও স্বাক্ষর জাল করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পুলিশ মোংলার চিলা ইউনিয়নের হলদিবুনিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার হেফাজত থেকে প্রতিমন্ত্রীর নাম ও পদবি সংবলিত সিল এবং দাপ্তরিক স্ট্যাম্প প্যাড জব্দ করা হয়। মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, দীর্ঘ দিন ধরে এই চক্রটি প্রতিমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন তদবির ও আর্থিক ফায়দা হাসিল করে আসছিল। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ তার অবস্থান নিশ্চিত করে এই অভিযান পরিচালনা করে।
এ ঘটনায় মোংলা থানায় টুকুর বিরুদ্ধে জালজালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই প্রতারক চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে এবং পর্দার আড়ালে থেকে কে বা কারা তাকে মদদ জুগিয়েছে, তা উদ্ঘাটনে রিমান্ডের আবেদনসহ জোরদার তদন্ত চলছে। এছাড়া চক্রের অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন