ফিফা বিশ্বকাপে দক্ষিণ আমেরিকার পরাশক্তি ইকুয়েডরকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়ে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট অর্জন করেছে কুরাসাও. দলটির এই ঐতিহাসিক অর্জনের একমাত্র নায়ক মায়ামি এফসির ৩৭ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক এলোয় রুম. পুরো ম্যাচজুড়ে ইকুয়েডরের একের পর এক আক্রমণ একাই প্রতিহত করেন তিনি. ম্যাচে অবিশ্বাস্য সব দক্ষতার পরিচয় দিয়ে মোট ১৫টি সেভ করেন রুম, যার মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ সেভের বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করেছেন. তাঁর এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই ডিক অ্যাডভোকাটের দল ইকুয়েডরের বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক ড্র নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়.
ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইকুয়েডরের ফরোয়ার্ডদের জন্য এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এলোয় রুম. তাঁর এই রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স ও ম্যাচের কিছু গুরুত্বপূর্ণ চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় এনের ভ্যালেন্সিয়ার একটি জোরালো শট খুব কাছ থেকে ফিরিয়ে দিয়ে নিজের প্রথম সেভটি করেন রুম, যা ছিল ম্যাচের অন্যতম সেরা সেভ. এরপর প্রথমার্ধেই জন ইয়েবোয়াহ ও ভ্যালেন্সিয়ার আরও কিছু আক্রমণসহ মোট ৬টি সেভ নিশ্চিত করেন তিনি. দ্বিতীয়ার্ধে ইকুয়েডরের আক্রমণের ধার আরও বাড়লে রুমের ব্যস্ততাও দ্বিগুণ হয়ে যায়. এই অর্ধে তিনি মোয়েসেস কাইসেদো, পেদ্রো ভিতে, কেভিন রদ্রিগেজ, নিলসন অ্যাঙ্গুলো এবং গঞ্জালো প্লাতার মতো তারকাদের নিশ্চিত সব গোলের সুযোগ নসাৎ করে দেন. এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ড ১৫টি সেভ করে রেকর্ড গড়েছিলেন, তবে সেই ম্যাচে তাঁর দল ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল. অন্যদিকে রুম কোনো গোল না হজম করেই ক্লিন শিট বজায় রেখে হাওয়ার্ডের সেই ১৫টি সেভের রেকর্ড স্পর্শ করেন.
ম্যাচজুড়ে ৩.০৫ এক্সজি (এক্সপেক্টেড গোলস) এবং মোট ২৭টি শট নিয়েও কুরাসাওয়ের জাল খুঁজে পায়নি ইকুয়েডর. কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে দায়িত্ব নেওয়ার পর দলটির রক্ষণভাগ পিয়েরে হিনকাপি এবং উইলিয়ান পাচোদের কল্যাণে বেশ শক্তিশালী হলেও আক্রমণভাগের ব্যর্থতা এখন চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে. টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে ৩৯টি শট নিয়েও কোনো গোল করতে পারেনি তারা. প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে ১-০ গোলে হারার পর এই ড্রয়ের ফলে ২ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ মাত্র ১ পয়েন্ট. ফলে নকআউট পর্বে যেতে হলে আগামী বৃহস্পতিবার শেষ ম্যাচে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে জয় ছাড়া কোনো বিকল্প নেই ইকুয়েডরের.
অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া কুরাসাওয়ের সামনেও এখন শেষ ৩২-এ যাওয়ার দারুণ সুযোগ রয়েছে. যদি তারা তাদের শেষ ম্যাচে ফিলাডেলফিয়াতে আইভরি কোস্টকে হারাতে পারে, তবে ইতিহাস গড়ে পরের রাউন্ডে চলে যেতে পারবে ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রটি.
মন্তব্য করুন